ভয় আর আতঙ্কে কাশ্মিরি মেয়েরা

ভয় আর  আতঙ্কে কাশ্মিরি মেয়েরা

ছবি সংগৃহিত।

ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল করার পর কেমন আছে কাশ্মির? কেমন আছেন সেখানকার মেয়েরা! গত ৫ অগস্ট ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল হয় কাশ্মিরে। বিশেষ মর্যাদা হারায় কাশ্মির। আর তার পর থেকেই টানা বেশ কয়েক দিন দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল কাশ্মির উপত্যকা। বন্ধ টেলিফোন, ইন্টারনেট।

পড়াশোনার জন্য কেরলে থাকতে হয় বছর কুড়ির তরুণী উজমা জাভেদকে। পরিবারের সঙ্গে ঈদ পালনের জন্য ওই সময়ে কাশ্মিরে ফিরেছিলেন উজমা। কিন্তু ঈদ তো দূরের, ঘরে ফিরে বন্দিদশাতেই ঈদ কেটে গেল উজমার। সংবাদ সংস্থাকে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে উজমা জানিয়েছেন, ওই সময়টা সব চেয়ে বেশি সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে কাশ্মিরি মেয়েদেরই।

উজমা জানান, সে সময় প্রতিটা মুহূর্ত উৎকণ্ঠায় কেটেছে তার। শ্রীনগরে তাদের দোতলা বাড়ির জানালা থেকে বারবার চোখ চলে যেত রাস্তায়। এই বুঝি কিছু হলো। সুনসান রাস্তাঘাট। টহল দিচ্ছে আধা সামরিক বাহিনী। কেউ কেউ হয়তো আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বুঝিয়ে সুঝিয়ে রাস্তা জুড়ে ছড়ানো কাঁটাতারের গণ্ডি পার করে বেরোতে পেরেছিল। কিন্তু ভয়ে আতঙ্কে কাঁটা হয়েছিলেন পরিজনেরা। বিশেষত বাড়ির মেয়েরা।

উজমা জানিয়েছেন, সব চেয়ে বেশি দুশ্চিন্তা হয়েছে, আশপাশের বান্ধবীদের জন্য। প্রায় এক সপ্তাহ ওদের কোনো খবর পাননি তিনি। বললেন, ‘‘মুনাজা কী করছে, কেমন আছে, কোনো খবর পাচ্ছিলাম। তা-ও ছেলেরা কোনো ভাবে ঈদের নামাজের জন্য বাড়ির বাইরে বেরোতে পেরেছিলেন। আমাদের তো সেটুকুও সম্ভব হয়নি।’’

তিনি আরো বলেছেন, ‘‘বাবা বা ভাইকেও আমি বাড়ির বাইরে বেরোতে দিতে চাইছিলাম না সে সময়। কিন্তু কোনো উপায়ও ছিল না। বাড়ির নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস এবং রুটিটুকু আনার দরকারে বেরোতেই হচ্ছিল।’’ বাড়ির সামনেই তখন বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বেধেছে বাহিনীর। মায়ের সঙ্গে একা বাড়িতে উজমা আতঙ্কে কাঁটা হয়েছিলেন। অনেক রাতে যখন বাবা ও ভাই ঘরে ফিরলেন, তত ক্ষণে উজমাকে নিয়ে ছুটতে হয়েছে হাসপাতালে। আতঙ্কে, উৎকণ্ঠায় সে দিন তার রক্তচাপ এমনই বেড়ে গিয়েছিল।

৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ হলে সমাজে লিঙ্গসাম্য প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যে নারীদের অধিকারও সুরক্ষিত হবে, এমন দাবি করেছিল বিজেপি। তবে তার এক দিন পর থেকেই কাশ্মিরি মহিলাদের দিকে ছুটে এসেছে কুরুচিকর ইঙ্গিত, তা-ও আবার খোদ বিজেপি মন্ত্রীদের বক্তৃতাতেই।

শ্রীনগরের মেকআপ শিল্পী ২২ বছরের সামরিন বললেন, ‘‘যে ভাবে কাশ্মিরি নারীদের পণ্যের মতো দেখা হচ্ছে ভারতে এবং তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশের ছবি ব্যবহার করে ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে এবং সম্মানহানিকর ইঙ্গিত করা হচ্ছে, তাতে প্রতি মুহূর্তে নিজেদের নির্যাতিত মনে হচ্ছে। আর সেই অনুভূতি কাশ্মিরের পুরুষদের আতঙ্কের চেয়েও বেশি ভয়াবহ।’’

শ্রীনগরের বাসিন্দা ২২ বছরের মিসবাহ রিহাসিও মনে করেন, বিজেপি যে ভাবে মুসলিম নারীদের রক্ষা করতে ‘মসিহা’ সাজার চেষ্টা করছে, তা আদতে সত্যি নয়। তার কথায়, ‘‘আশা করি, ভারতের মানুষ একদিন বুঝতে পারবে, এই দলের কাশ্মিরি নারীদের সুরক্ষা দেয়ার কোনো ইচ্ছা বা প্রচেষ্টাই নেই।’’

 

ad