থানায় ধর্ষকের সাথে গৃহবধূর বিয়ে : ওসি প্রত্যাহার

থানায় ধর্ষকের সাথে গৃহবধূর বিয়ে : ওসি প্রত্যাহার

ছবি সংগৃহিত।

পাবনায় গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষণ এবং এরপর পাবনা সদর থানায় অভিযুক্ত এক ধর্ষকের সাথে গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূর বিয়ের ঘটনায় পাবনা সদর থানার ওসি ওবাইদুল হককে প্রত্যাহার ও অভিযুক্ত এসআই একরামুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

জানা যায়, পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নে স্বামী ও সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন ওই নারী। তার অভিযোগ, প্রতিবেশী রাসেল আহমেদ গত ২৯ আগস্ট তাকে অপহরণ করে সহযোগীসহ গণধর্ষণ করে। দু'দিন পর তাকে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিসে নিয়ে তিনদিন আটকে রাখা হয় এবং সেখানে আরও ৪-৫ জন ধর্ষণ করে। পরে ওই নারী বাড়ি ফিরে স্বজনদের বিষয়টি জানালে গত বৃহস্পতিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ বিষয়ে গৃহবধূ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করলে পুলিশ অভিযুক্ত রাসেলকে আটক করে। এরপর ওই রাতেই থানায় গৃহবধূর আগের স্বামীকে তালাক দিয়ে অভিযুক্ত ধর্ষক রাসেলের সঙ্গে বিয়ে দেয় থানা পুলিশ।

এই ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে থানায় ভূক্তভোগীর মামলা না নিয়ে গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূর সঙ্গে এক অভিযুক্তের বিয়ে দেয়ার অভিযোগের বিষয়ে গত সোমবার ওসি ওবাইদুল হকের কাছে ব্যাখ্যা চায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে এ ঘটনায় মামলা নেয়ার নির্দেশও দেয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাসকে প্রধান করে গঠন করা হয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি।

জানা যায়, ওসি ওবায়দুল হককে পুলিশ লাইনসে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আর অভিযুক্ত ধর্ষকের সঙ্গে থানায় গৃহবধূর বিয়ে দেয়ায় প্রত্যক্ষ সহায়তাকারী এসআই একরামুলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে অভিযুক্ত এক ধর্ষকের সাথে পাবনা সদর থানায় জোর করে তাকে বিয়ে দেয়া হয় বলে ওই নারী অভিযোগ করেন।

 

 

ad