তেলের দাম বেড়ে আবার ১০০ ডলার ছাড়ালো
সংগৃহীত ছবি
এশিয়ায় জ্বালানি বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন কোনো চুক্তি ছাড়াই আলোচনা শেষ হওয়ার পর এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বন্দর অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর সোমবার তেলের দাম বেড়ে যায়।
বৈশ্বিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭.৩ মতাংশ বেড়ে ১০২.৩০ ডলারে (৭৬.৩২ পাউন্ড) দাঁড়িয়েছে, অন্যদিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ৮.৭ শতাংশ বেড়ে ১০৪.৯৪ ডলার হয়েছে। আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরো গভীর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ।
গত বুধবার ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি শর্তসাপেক্ষ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হওয়ার পর তেলের দাম ১০০ ডলারের অনেক নিচে নেমে আসে। এই চুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইরান যুদ্ধের একটি প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে হরমুজ প্রণালি। মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তেহরান এই প্রণালীটি ব্যবহার করতে চাওয়া জাহাজগুলোতে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে পণ্য পরিবহন মূলত স্থবির হয়ে আছে। যদিও ভারত ও মালয়েশিয়ার মতো কিছু দেশ তাদের জাহাজগুলোর জন্য নিরাপদ পথের ব্যবস্থা করতে আলোচনা করেছে। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে ।
সিঙ্গাপুরের নানিয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির অর্থনীতিবিদ চুয়া ইয়ো হুই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার দিকে নিবিড়ভাবে নজর রাখা হচ্ছিল।
এই আশায় যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে সমস্যা দ্রুত হ্রাস পাবে।’ তিনি বলেন, ‘তেলের দাম সম্ভবত ঊর্ধ্বমুখী থাকবে।
সোমবার সকালের লেনদেনে এশিয়ার প্রধান শেয়ার সূচকগুলো নিম্নমুখী ছিল। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ১ শতাংশ কমেছে, অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ০.৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে এশিয়ার দেশগুলো বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
মার্কিন স্টক ফিউচারও ওয়াল স্ট্রিটের শেয়ারের দরপতনের ইঙ্গিত দিয়েছে। স্টক ফিউচার হলো বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভবিষ্যতে একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি নির্ধারিত মূল্যে কোনো সম্পদ ক্রয় বা বিক্রয় করার একটি চুক্তি, যা বাজারের গতিপথ নির্দেশ করতে পারে।
সংঘাতের ঘটনাপ্রবাহে বিনিয়োগকারীদের প্রতিক্রিয়ার ফলে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম এবং আর্থিক বাজারে ব্যাপক ওঠানামা দেখা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়াসহ একটি শর্তসাপেক্ষ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর ৮ এপ্রিল ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯০ ডলারে নেমে আসে।
মার্কিন স্টক ফিউচার দেখাচ্ছে, ওয়াল স্ট্রিটে শেয়ারের দাম কমতে পারে। স্টক ফিউচার হলো এমন এক ধরনের চুক্তি, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট সময়ে কোন সম্পদ কত দামে কেনা বা বিক্রি হবে, তা আগাম ঠিক করে রাখেন। এর মাধ্যমে বাজারের ভবিষ্যৎ প্রবণতা বোঝা যায়।
সাম্প্রতিক সময়ে সংঘাতের কারণে বিনিয়োগকারীদের প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম ও আর্থিক বাজারে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দেওয়াসহ শর্তসাপেক্ষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ার পর ৮ এপ্রিল ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯০ ডলারে নেমে আসে।
ট্রাম্প রবিবার ট্রুথ সোশ্যাল-এ করা এক পোস্টে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশ বা প্রস্থানের চেষ্টাকারী যেকোনো এবং সমস্ত জাহাজকে অবরোধ করা শুরু করবে।’
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ১৩ এপ্রিল থেকে তারা ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ কার্যকর করতে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্টের ঘোষণা অনুযায়ী ওই দিন সকাল ১০টা থেকে ইরানি বন্দরগুলোতে আসা-যাওয়া করা সব ধরনের নৌ-চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে।
সেন্টকম আরো বলেছে, তারা হরমুজ প্রণালীতে ইরান ছাড়া অন্য যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর চলাচলে বাধা দেবে না।
এদিকে পাকিস্তানে তেহরানের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্বদানকারী ইরানের সংসদীয় স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলেছেন, দেশটি ‘কোনো হুমকির কাছে নতি স্বীকার করবে না’।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনী বলেছে, প্রণালিটির দিকে এগিয়ে আসা যেকোনো সামরিক জাহাজকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনকারী হিসেবে গণ্য করা হবে এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।