আমাকে ‘বোকা’ বলবেন না, বুদ্ধিমান ‘স্বৈরশাসক’ বলুন: ট্রাম্প
সংগৃহীত ছবি
সমালোচকদের উদ্দেশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিস্ফোরক ও অদ্ভুত মন্তব্য করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিরোধীদের সমস্ত কটূক্তির মধ্যে ‘বোকা’ বা ‘জ্ঞানহীন’ শব্দটি তিনি সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করেন। তবে কেউ যদি তাকে ‘বুদ্ধিমান একনায়ক বা স্বৈরাচারী শাসক’ বলে ডাকেন, তাতে তার বিন্দুমাত্র আপত্তি নেই।
গত শুক্রবার নিউ ইয়র্কে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া এক সমাবেশে ৭৯ বছর বয়সী এই রিপাবলিকান নেতা তার মানসিক সুস্থতা নিয়ে ওঠা সমালোচনার জবাবে চিকিৎসকের সঙ্গে হওয়া এক গোপন কথোপকথন এভাবে প্রকাশ করেন।
দ্রব্যমূল্য ও সাশ্রয়ী জীবনযাত্রার ওপর আয়োজিত ওই সমাবেশে ট্রাম্প হঠাৎ করেই নিজের মূল বক্তব্য থেকে সরে গিয়ে তার মানসিক ফিটনেস নিয়ে কথা বলা শুরু করেন। তিনি বলেন, বিরোধীরা তাকে নিয়ে সবচেয়ে খারাপ যে আক্রমণটি করে, তা হলো তাকে ‘বোকা’ বলা। এই অপবাদ তিনি এতটাই ঘৃণা করেন যে, সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করতে তিনি নিজের চিকিৎসকের কাছে বিশেষ পরীক্ষা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। জনতাকে উদ্দেশ করে তিনি গর্বের সঙ্গে বলেন, আপনারা জীবনে যত মানুষের সঙ্গে মিশেছেন, তাদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে বুদ্ধিমান ব্যক্তি। এরপর ট্রাম্প রসিকতা করে সমর্থকদের কাছে জানতে চান, আপনারা কি একজন বুদ্ধিমান মানুষকে দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে পেতে চান না?
সমাবেশে ট্রাম্প তার চিকিৎসকের সঙ্গে হওয়া সেই মজার কথোপকথন পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, তিনি ডাক্তারকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে কেউ তাকে একনায়ক বা স্বৈরাচারী বললে তিনি কিছু মনে করবেন না, কিন্তু বোকা বললে তা মেনে নেওয়া অসম্ভব। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি একটি বিশেষ ‘কগনিটিভ টেস্ট’ বা মানসিক দক্ষতা পরীক্ষা দেন। ট্রাম্পের দাবি, এই পরীক্ষার প্রশ্নগুলো শুরুতে সহজ হলেও শেষের দিকে বেশ কঠিন ছিল। তিনি কেবল এই পরীক্ষায় পাসই করেননি, বরং চিকিৎসকদের অবাক করে দিয়ে তার প্রেসিডেন্ট মেয়াদে মোট তিনবার এই পরীক্ষায় অংশ নিয়ে প্রতিবারই শতভাগ সফল হয়েছেন, যা চিকিৎসকদের মতে একটি বিরল ঘটনা।
এর আগে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বারাক ওবামা বা জো বাইডেনের মতো নেতাদের ইঙ্গিত করে দাবি করেছিলেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বা ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার আগে প্রত্যেকের জন্য এই মানসিক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা উচিত।
অবশ্য ট্রাম্প তার বুদ্ধিমত্তা নিয়ে যতই বড়াই করুন না কেন, চিকিৎসকদের একটি বড় অংশ তার এই দাবি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প যে পরীক্ষার কথা বলছেন তা মূলত ‘ডিমেনশিয়া’ বা স্মৃতিভ্রংশ রোগ শনাক্তকরণের একটি সাধারণ স্ক্রিনিং টেস্ট।
টাফটস ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের মনোরোগবিদ্যার ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. হেনরি ডেভিড আব্রাহাম জানান, এত কম সময়ের ব্যবধানে তিনবার এই পরীক্ষা দেওয়া মোটেও স্বাভাবিক বিষয় নয়, বরং এটি উদ্বেগের। অন্যদিকে জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির সাবেক অধ্যাপক ড. জন গার্টনারের দাবি, ট্রাম্পের মানসিক ও জ্ঞানীয় ক্ষমতা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে, যা তার আচরণেই স্পষ্ট।
তবে ট্রাম্পের কট্টর সমালোচকদের এমন নেতিবাচক মন্তব্যের বিপরীতে পেন্টাগনপ্রধান পিট হেগসেথ মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। হেগসেথ ট্রাম্পকে আমেরিকার ইতিহাসের অন্যতম ‘তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন’ এবং ‘সবচেয়ে দূরদর্শী’ কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে অভিহিত করে তার মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার পক্ষে সাফাই গেয়েছেন।
সূত্র: এনডিটিভি