ফেরেশতা আল্লাহ তায়ালার বিস্ময়কর সৃষ্টি। ইসলামী বিশ্বাস মতে, আল্লাহর নির্দেশে লোকচক্ষুর আড়ালে তারা বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত। হাদিসে ফেরেশতাদের বিস্ময়কর জীবনযাপন নিয়ে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।
ফেরেশতা
হজরত মুয়াবিয়া ইবনে মুয়াবিয়া আলমুযানি আললাইছি (রা.) ইন্তেকাল করলে ৭০ হাজার ফেরেশতাসহ জিবরাইল (আ.) নবীজির কাছে আগমন করেন। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরাইল (আ.) এবং এসব ফেরেশতাদের নিয়ে তার জানাজায় শরিক হন।
বহু কাজ এমন আছে, যেগুলোকে আমরা তুচ্ছ মনে করি, কিন্তু আসলে সেগুলো তুচ্ছ বিষয় নয়।
মানুষের মধ্যে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে- ফেরেশতারা অনিন্দ্যসুন্দর। যুগে যুগে ‘ফেরেশতার মতো সুন্দর’ এবং ‘শয়তানের মতো কুৎসিত’—এই দুটি উপমা দিয়ে সৌন্দর্য ও কুৎসিতের তুলনা করা হয়ে আসছে।
ফেরেশতারা আল্লাহ তাআলার সম্মানিত ও অনুগত সৃষ্টি। তাঁর মহিমা, পরাক্রম ও সীমাহীন ক্ষমতার প্রত্যক্ষ সাক্ষী হওয়ায় তাদের হৃদয়ে এক গভীর ভয় ও শ্রদ্ধা বাস করে। এই ভয় কেবল শাস্তির আশঙ্কা নয়, বরং আল্লাহর মহানত্বের প্রতি এক অগাধ ভালোবাসা ও আত্মসমর্পণের বহিঃপ্রকাশ।
হজরত কাব আহবার প্রমুখ বর্ণনা করেছেন— হজরত ইদরিস (আ.) একদিন সারাদিন প্রখন রোদের মধ্যে পথ চললেন। শেষে ক্লান্ত হয়ে বললেন, হে আমার প্রতিপালক! একদিন পথ চলতেই আমি এতো ক্লান্ত হয়ে পড়লাম, কিন্তু যে দিন সবাই ৫০০ বছরের পথ অতিক্রম করতে বাধ্য হবে, সেদিন তাদের কি দূরবস্থাই না হবে।
একজন মুমিনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব আল্লাহর ওপর ঈমান আনা এবং ঈমানের ওপর অটল থাকা। শত বাঁধা বিপত্তির মুখেও ঈমানকে আকড়ে ধরা।
ফেরেশতা মহান আল্লাহর বিস্ময়কর সৃষ্টি। তারা সব সময় আল্লাহ তায়ালার ইবাদতে মগ্ন থাকেন। কোরআন মজিদে ফেরেশতাদের সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে, ‘বরং তারা তো সম্মানিত বান্দা।
প্রিয়নবী (স.) উম্মতকে এমন এক আমলের কথা বলেছেন, যার ফজিলতের কথা বলে শেষ করা যাবে না। আমলটির গুরুত্ব ও মর্যাদা নিয়ে অনেক হাদিস রয়েছে। আমলটি হলো অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া ও সেবা করা।
মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাআলার বান্দারা পৃথিবীতে এমন একটি আমল করেন, যে আমলটি করার সঙ্গে সঙ্গে রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাআলা অগণিত ফেরেশতাদেরকে নাজিল করেন।