আপনি এভাবে সাউট করেন কেন?, প্রসিকিউটরের ওপর খেপলেন কামরুল
ছবিঃ সংগৃহিত।
সাক্ষীকে অপরাধের সঙ্গে জড়িত ১৪ দলের নেতাকর্মীদের নাম বলতে বলছিলেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ। তখনই কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে উঁচু গলায় আপত্তি জানান সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আপনি এভাবে সাউট করেন কেন? আপনার কিছু বলার থাকলে আইনজীবীর মাধ্যমে বলবেন।’
এ সময় পাশ থেকে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, সুলতানা মাহমুদ কোনো ভুল করেননি। কামরুল ইসলাম বলেন, এভাবে বললে তো হবে না।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই-আগস্টে রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এবং সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী নেতা কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে চতুর্থ সাক্ষী দিচ্ছেন প্রত্যক্ষদর্শী হানিফ মিয়া।
এ সময় সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে হানিফ মিয়া জুলাইয়ে কারফিউ চলাকালে রাজধানীর বাড্ডা-রামপুরায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছিলেন।
এক পর্যায়ে তিনি বলেন, এসব অপরাধের জন্য ১৪ দলের নেতারা দায়ী। কারণ তিনি টিভিতে এই নেতাদের মিটিং করে আন্দোলনকারীদের দমন-পীড়ন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা শুনেছিলেন।
তখন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘আপনি ১৪ দলের নেতাদের কথা বলছেন, তাদের নাম বলেন।’
তখন আসামিদের জন্য সংরক্ষিত কাচের গ্লাসের ভেতর থেকে কামরুল ইসলাম প্রসিকিউটরকে জোর করে নাম বলার অভিযোগ তোলেন।
এ সময় কামরুল ইসলামকে সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘আপনি এভাবে সাউট করেন কেন? আপনার কিছু বলার থাকলে আইনজীবীর মাধ্যমে বলবেন।’
এ সময় প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, ‘আমার মনে হয় জবানবন্দি গ্রহণে ভুল করেননি। প্রসিকিউশনের একটাই টার্গেট, একটাই উত্তর চাই। সাক্ষী ১৪ দলের কথা বলায়, তিনি নাম বলতে বলেছেন।’
এমন সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী মুনসুরুল হক বলেন, ‘It is a matter of identification। আপনারা প্রশ্ন করে নাম বলাচ্ছেন।’
তখন মিজানুল ইসলাম বলেন, ‘এটা লিডিং প্রশ্ন না।’
পরে সাক্ষী আবার তার জবানবন্দি দিতে থাকেন। উল্লেখ্য, গত ২৩ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিচারিক কার্যক্রম শুরু করা হয়।
পরে ব্রিফিংয়ে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে বলেন, প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সাক্ষীকে জিজ্ঞেস করলেন, ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ কারা? এ প্রশ্নকে অবৈধ উল্লেখ করে আসামি কামরুল ইসলাম চিৎকার, চেঁচামেচি শুরু করেন। আপত্তি উত্থাপন করেন। বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ার চেষ্টা করেন। আদালত শান্তভাবে বিষয়টি মোকাবেলা করেছেন।
তিনি আরো বলেন, ‘প্রসিকিউশনের উদ্দেশ্য একটাই, আসামির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটা প্রমাণ করা। পরবর্তীতে জানলাম, উনি (কামরুল ইসলাম) রক্ষীদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করেছেন। মাঝেমধ্যে এমন করেন, কেন করেন, আল্লাহই ভালো জানেন।’