ফ্রান্স ইস্যুতে ট্রাম্পসহ বিশ্ব নেতাদের কড়া জবাব দিলেন ম্যাক্রোঁ
সংগৃহীত ছবি
ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভের বিষয়ে কিছু বিদেশি নেতার করা মন্তব্যকে ‘বোকামিপূর্ণ’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তার অভিযোগ, এসব নেতারা ফ্রান্সের উত্তপ্ত সামাজিক পরিস্থিতিকে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন।
গত সপ্তাহে প্যারিস ও অন্যান্য শহরে লুটপাটের ঘটনার পরবর্তী সময়ে ‘তথ্যের ক্ষেত্রে বিদেশি হস্তক্ষেপ’ ঘটেছে বলে দাবি করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, বিদেশি নেতাসহ অনেকের কাছ থেকেই এমন সব মন্তব্য এসেছে, যা একই সঙ্গে অগ্রহণযোগ্য ও বোকামিপূর্ণ।
একজন সাংবাদিক ম্যাক্রোঁকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি ট্রাম্পের কথা বলছেন কি না। উত্তরে তিনি বলেন, অন্যদের পাশাপাশি তিনিও (ট্রাম্প) রয়েছেন। ম্যাক্রোঁ বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে এমন সব ছবি তৈরি করা হয়েছে, যা বাস্তবে ফ্রান্সে কখনোই ঘটেনি। কেউ কেউ দাবি করছেন, আমরা অভিবাসী ও ইসলামপন্থীদের বিশাল দলের আগ্রাসনের শিকার হয়েছি, যা পুরোপুরি মিথ্যা।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, অভিবাসীরাই এই অস্থিরতাকে উসকে দিচ্ছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের আরব দেশগুলো সফরের সময় বুধবার ম্যাক্রোঁ এসব কথা বলেন। সেপ্টেম্বর মাসে শিক্ষা ব্যবস্থা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দেশজুড়ে সহিংসতা ও দাঙ্গায় রূপ নিয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ গত ২ হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শনিবার আরও বিক্ষোভের আশঙ্কায় ফরাসি কর্তৃপক্ষ কিছু এলাকায় কারফিউ জারি করেছে এবং বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এই দাঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কর্তৃপক্ষের ওপর প্রচণ্ড চাপ রয়েছে। এই অস্থিরতায় কোনো বিদেশি শক্তির সম্পৃক্ততা আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, ঘটনাপ্রবাহে কোনো দৃশ্যমান বিদেশি হস্তক্ষেপ নেই।
ট্রাম্পের পাশাপাশি ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সও ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই অস্থিরতার পেছনে অভিবাসীরা রয়েছে। এদিকে প্যারিসে ফেরার আগে ফরাসি প্রেসিডেন্ট সৌদি আরবে এক আকস্মিক সফরে যান এবং সেখানে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে আলোচনা করেন।
সূত্র: সিএনএন, এনডিটিভি।