ফটিকছড়িতে অবৈধ ইটভাটা বন্ধের দাবিতে কৃষকদের মানববন্ধন
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ ইটভাটা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছেন স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা। শনিবার (২৫ অক্টোবর) সকালে উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচি থেকে এনএসবি ব্রিক ফিল্ডসহ এলাকার সব অবৈধ ইটভাটা স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানানো হয়।
শত শত কৃষকের অংশগ্রহণে মানববন্ধন শেষে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়। এতে স্থানীয় কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন হারুয়ালছড়ি খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন, স্থানীয় কৃষক আলাউদ্দিন ও নুরুল হকসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির অভিযোগে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালে প্রশাসন এনএসবি ব্রিক ফিল্ডটি ভেঙে দিয়েছিল। তবে সম্প্রতি এটি আবার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
বক্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ইটভাটাটি পুনরায় চালু হলে আশপাশের ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই জনস্বার্থে এটি স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখতে হবে।
হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, ইটভাটাটি এর আগে প্রশাসন ভেঙে দিয়েছিল। এখন আবার চালুর চেষ্টা চলছে। এটি চালু হলে এলাকার কৃষিজমি ও বসতবাড়ির পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জনস্বার্থে ইটভাটাটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করা জরুরি।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ফটিকছড়িতে মোট ৫৮টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র আটটির অনুমোদন রয়েছে। বাকি ৫০টি অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এসব ইটভাটার পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসনের লাইসেন্স নেই।
আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত শর্ত ও বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে কৃষিজমিতে ইটভাটা স্থাপন ও পরিচালনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফটিকছড়ির বিভিন্ন এলাকায় ইটভাটার জন্য ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে নেওয়ায় কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে।
চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন ফয়সল বলেন, ফটিকছড়িতে থাকা ৫৮টি ইটভাটার মধ্যে আটটি বৈধ এবং ৫০টি অবৈধ। নিয়ম অনুযায়ী, অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।