গ্যাস সংকটে ফের বন্ধ যমুনা সার কারখানা
ছবি সংগৃহীত।
জামালপুরের সরিষাবাড়ীর তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানায় গ্যাস সংকটের কারণে আবারও উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।
কারিগরি ত্রুটি সারিয়ে উৎপাদন শুরুর মাত্র দুই দিনের মাথায় রোববার সকালে কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কারখানাটিতে উৎপাদন শুরুর সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে উৎপাদন বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যমুনা সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. আফাজ উদ্দিন।
তিনি জানান, গ্যাসের চাপ কম থাকায় রোববার সকালে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে আগামী ডিসেম্বর মাসে গ্যাস সরবরাহের কথা জানানো হয়েছে। ফলে ডিসেম্বরের আগে কারখানাটিতে উৎপাদন পুনরায় শুরুর সম্ভাবনা নেই।
কারখানার উৎপাদন বিভাগের প্রধান ফজলুল হক জানান, নিরবচ্ছিন্নভাবে সার উৎপাদন চালু রাখতে দৈনিক ৪২ থেকে ৪৩ পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী গ্যাসের চাপ না পাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আবারও উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে।
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন গ্যাস সংকটে বন্ধ থাকার পর গত ৬ অক্টোবর যমুনা সার কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়। তবে কারিগরি ত্রুটির কারণে ৮ অক্টোবর আবারও উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। পরে শুক্রবার ত্রুটি মেরামত করে উৎপাদন চালু করা হলেও গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় দুই দিনের মাথায় ফের উৎপাদন বন্ধ করতে হয়। এ সময় কারখানাটিতে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন শুরু করা সম্ভব না হলেও দুই দিনে মোট ১ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদিত হয়েছে।
উল্লেখ, গ্যাস সংকট ও বিভিন্ন যান্ত্রিক জটিলতায় দীর্ঘ সময় ধরে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ সার কারখানায়। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ২৩ মাস বন্ধ ছিল কারখানাটি। এরপর গ্যাস সংযোগ পেয়ে উৎপাদন শুরু হলেও চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি আবারও গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। পরে গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে কারখানাটিতে পুনরায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়।
যমুনা সার কারখানার প্রাথমিক উৎপাদন সক্ষমতা দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন। তবে গ্যাসের চাপের স্বল্পতা ও বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদন করা সম্ভব।
কারখানাটি থেকে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) তালিকাভুক্ত প্রায় ১ হাজার ৯০০ ডিলারের মাধ্যমে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরাঞ্চলের মোট ২১টি জেলায় সার সরবরাহ করা হয়। বারবার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এসব এলাকায় সার সরবরাহের ওপর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।