স্যামসন-তিলকের মহাপ্রলয়ে উড়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা
সংগৃহীত
৪ ম্যাচ সিরিজের শেষ ম্যাচে গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল ভারত। সফরের প্রথম ম্যাচে ৪৭ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন ভারতীয় ওপেনার সাঞ্জু স্যামসন। তবে এরপরের দুই ম্যাচে তিনি আউট হন ০ রান করেই। সেই ক্ষতি পুষিয়ে দিতেই যেনো গতকাল রুদ্র মূর্তি ধারণ করেছিলেন তিনি। আর স্যামসনকে দেখে একই নেশায় পেয়েছিল আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান তিলক ভার্মাকেও। দুজনে একই সঙ্গে প্রোটিয়া বোলারদের তুলোধুনো করেছেন। সেই সুবাদে ২০ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ২৮৩ রানের সংগ্রহ গড়ে ভারত।
বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটাররা একদমই ভালো করতে পারেননি। ১০ রানেই ৪ উইকেট হারানো দলটি শেষ পর্যন্ত অল আউট হয় ১৪৮ রানে। আর তাতে ১৩৫ রানের বিশাল এক জয় পায় ভারত।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে ভারত দারুণ জয় পেলেও দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে নেয় স্বাগতিকরা। তবে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচ জিতে ফের লিড নিয়েছিল সূর্যকুমার যাদবের দল। গতকালের জয়ে সিরিজটি ৩-১ ব্যবধানে জিতে নিল সফরকারীরা।
আগে ব্যাত করতে নেমে গতকাল শুরু থেকেই তাণ্ডব চালিয়েছেন স্যামসন। সিরিজের প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরি করে টানা দুই টি-টোয়েন্টি ম্যাচে সেঞ্চুরি করা প্রথম ভারতীয় ব্যাটার হওয়ার মাইলফলক গড়েছিলেন তিনি। এরপর দুই ম্যাচে ব্যাটে রান না পেলেও গতকাল ফের চিরায়ত মারকুটে রূপ ধারণ করেছিলেন তিনি।
স্যামসনের সঙ্গে শুরু থেকেই মারকুটে ভঙ্গিতে খেলেছেন আরেক ওপেনার অভিষেক শর্মাও। তবে অভিষেক নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি। ১৮ বলে ৩৬ রান করে আউট হন এই ওপেনার। এরপর অবশ্য আর কোন উইকেটই নিতে পারেনি প্রোটিয়া বোলাররা।
অভিষেক আউট হওয়ার পর তিলক ভার্মা আর স্যামসন মিলে গড়েছেন ইতিহাস। দলীয় ৭৩ রানে মাঠে নেমে স্যামসনকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন আগের ম্যাচেই সেঞ্চুরি করা তিলক। এর আগে আর কখনোই আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে আইসিসির পূর্ণ সদস্য কোনো দেশের দুই ব্যাটসম্যানের একই ইনিংসে সেঞ্চুরি করতে পারেননি সেটাই কাল করে দেখিয়েছেন স্যামসন ও তিলক।
প্রোটিয়া বোলারদের উপর তাণ্ডব চালিয়ে গতকাল ২৮ বলেই নিজের শতক তুলে নেন স্যামসন। এরপর ৫১ বলে তিনি ছুঁয়েছেন শতক। শেষ পর্যন্ত ৫৬ বলে ১০৯ রান করে অপরাজিত ছিলেন তিনি। এছাড়া তিলক অপরাজিত ছিলেন ৪৭ বলে ১২০ রানে। এ দুজনের সেঞ্চুরিতে ২৮৩ রানের সংগ্রহ গড়ে ভারত।
বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে সর্বোচ্চ ৪৩ রান করেন ট্রিস্টান স্টাবস। এছাড়া মিলার ৩৬ ও মার্কো ইয়ানসেন করেন ২৯ রান। এছাড়া টপ অর্ডারের সবাই ব্যর্থ হওয়ায় প্রোটিয়ারা ১৪৮ রানেই অল আউট হলে ১৩৫ রানের জয়ে সিরিজ নিশ্চিত করে ভারত।