বিজয়ের সাজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ফাইল ছবি
আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পেরুলেই ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। গৌরবময় অবিস্মরণীয় বাংলাদেশের বিজয়ের ৫৩ বছর হতে চলেছে। দেশের এই বিজয়ের পেছনে দেশের ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হিসেবে প্রতিষ্ঠান হিসেবে এক সঞ্জীবনী শক্তির রসদ যুগিয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। এরই মধ্যে দেশ ও জাতিরাষ্ট্রের আন্দোলন সংগ্রামে অসামান্য অবদানের জন্য বিশেষ মর্যাদা লাভে কাজও শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। দেশের বিজয়ের ৫৩ বছর পূর্তিতে বর্ণিল সাজে সেজেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
বিশেষ এই দিনটি ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক, উপাচার্য ভবন, কার্জন হল, কলা ভবন, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি), প্রশাসনিক ভবন, স্মৃতি চিরন্তন, হলগুলোতে লেগেছে বিজয়ের আমেজ। লাল, নীল, সবুজসহ বাহারি রঙবেরঙের বাতিতে বিজয়ে সাজে সেজেছে পুরো ঢাবি ক্যাম্পাস। রোববার (১৫ ডিসেম্বর) সরেজমিন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
এদিকে বিজয়ে আমেজে মেতে উঠতে শিক্ষার্থী বর্ণিল এসব স্থাপনার সঙ্গে সঙ্গে মুঠোফোনে স্থিরচিত্রও ধারণ করছেন। বিজয়ের প্রথম প্রহরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ ফানুস উড্ডয়ন, দেওয়ালচিত্র ও আলোক প্রজ্বলনের মাধ্যমে বিজয় উদযাপন করবেন আজ। এছাড়া ১৬ ডিসেম্বর টিএসসির পায়রা চত্বরে সন্ধ্যা ৬টা হতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র জহির রায়হান পরিচালিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র স্টপ জেনোসাইড এবং হুমায়ুন আহমেদ পরিচালিত 'আগুনের পরশমনি' উন্মুক্ত প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
এদিকে বিজয়ের ৫৩ বছর পূর্তিতে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। জানা যায়, কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আগামীকাল ১৬ ডিসেম্বর সকাল ৬টা ২০ মিনিটে উপাচার্য ভবনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে এর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।
পরে সকাল সাড়ে ৬টায় উপাচার্য ভবন সংলগ্ন স্মৃতি চিরন্তন চত্বরে জমায়েত এবং সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।
এছাড়া, সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ, নৃত্যকলা বিভাগ এবং থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের যৌথ ব্যবস্থাপনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে।
দিবসটি উপলক্ষে বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিয়াসহ বিভিন্ন হল এবং আবাসিক এলাকার মসজিদে শহিদদের রুহের মাগফেরাত কামনা এবং দেশের সমৃদ্ধি ও উন্নতির জন্য দোয়া করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য উপাসনালয়ে শহিদদের আত্মার শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনা করা হবে।