গ্যালারিতে বসে ছেলের সেঞ্চুরি দেখে অশ্রুসিক্ত নীতীশের বাবা
ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়া ৪৭৪ রানের বড় সংগ্রহ গড়ার পর ভারত চাপে পরে দ্বিতীয় দিনেই। ১৬৪ রান করতেই ৫ উইকেট হারায় রোহিত শর্মার দল। আজ তৃতীয় দিনের শুরুতেই হারায় রিশব পন্ত ও রবীন্দ্র জাদেজাকে। জাদেজা যখন আউট হন তখন ভারতের রান ৭ উইকেটে ২২১। তবে চাপের মুহূর্তে দলের হাল ধরেন নীতীশ কুমার রেড্ডি, ৮ নম্বরে ব্যাত করতে নেমে ওয়াশিংটন সুন্দরকে সঙ্গে নিয়ে তিনি যে শুধু দলকে ফলো-অন এড়াতে সাহায্যই করেছেন তাই নয়, করেছেন রেকর্ড শতক। তার এই সেঞ্চুরিতেই আবার ম্যাচে ফিরেছে সফরকারীরা।
ভারতের সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করেছিলেন শচীন টেন্ডুলকার। সাবেক এই কিংবদন্তি ১৮ বছর ২৫৬ দিন বয়সে শতক হাঁকিয়েছিলেন, ১৯৯২ সালে সিডনিতে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। এরপর ২০১৯ সালে সিডনিতেই দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে শত রান করেছিলেন রিশব পন্ত, তার বয়স ছিল ২১ বছর ৯২ দিন।
আর আজ ভারতের তৃতীয় সর্বকিনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেঞ্চুরি করার রেকর্ড গড়েছেন নীতীশ। ২১ বছর ২১৬ দিন বয়সে এ রেকর্ড গড়লেন তিনি। ভারতীয় তরুণ এই ব্যাটারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিও এটিই। সেই সঙ্গে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ৮ নম্বরে ব্যাত করতে নেমে প্রথম সেঞ্চুরি করা ব্যাটারও নীতীশই।
এদিকে নীতীশ যখন মাঠে অজি বোলারদের বিপক্ষে লড়ছেন তখন মেলবোর্নের মাঠেই উপস্থিত ছিলেন নীতীশের বাবা মুতায়ালা রেড্ডি। গ্যালারির একেবারে প্রথম সারিতে ভারতীয় সমর্থকদের সঙ্গে তিনিও ছেলেকে সমর্থন দিয়েছেন, গলা ফাটিয়েছেন। আর শেষ পর্যন্ত নীতীশ যখন মাইলফলকে পৌঁছান তখন অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন ভারতীয় ক্রিকেটারের বাবা।
সম্প্রচারকারী চ্যানেলে তখন দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নীতীশের বাবা বলেন, ‘আমাদের পরিবারের জন্য এটা খুবই বিশেষ এক দিন। আমরা কখনোই এই দিনটি ভুলতে পারবো না। বয়সভিত্তিক দল থেকেই সে অনেক ভালো খেলছে। আর এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও সে ভালো খেলছে। এটা অসাধারণ এক অনুভূতি।’
এদিকে ১১৪তম ওভারে প্যাট কামিন্সের করা তৃতীয় বলে আউট হলেন জশপ্রীত বুমরা, ক্রিজে এলেন মোহাম্মদ সিরাজ। সেই ওভারের পরের তিনটা বলে সিরাজ যেন আউট না হন এই প্রার্থনাই করেছেন ভারতীয় সমর্থকরা। সিরাজ আউট হলে সেঞ্চুরি করা হতো না নীতীশ কুমার রেড্ডির। নন স্ট্রাইকপ্রান্তে নীতীশ তখন ৯৯ রানে আছেন। পরের ৩ বলে সিরাজকে আউট করতে পারেননি কামিন্স। পরের ওভারেই সেঞ্চুরির দেখাও পেয়েছেন নীতীশ।
কামিন্সের সেই ৩ বলের সময় অনুভূতি কেমন ছিল এমন প্রশ্নের উত্তরে নীতিশের বাবা বলেন, ‘আমার খুব চিন্তা হচ্ছিল, কারণ ওটাই ছিল শেষ উইকেট। তবে ভাগ্য ভালো যে সিরাজ আউট হয় নি।’