মধুমেলায় এবছর একশো সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিবেশনায় মুগ্ধ দর্শক
ছবি: প্রতিনিধি
টিআই তারেক: মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়িতে চলছে সপ্তাহ ব্যাপী মধুমেলা। প্রতি বছরই মেলার আয়োজন করা হয়। মধুমঞ্চে আয়োজন হয়ে থাকে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন এই সাংস্কৃতিক আয়োজনে তাদের পারফরমেন্স প্রদর্শন করে থাকেন। বিগত পতিত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে নির্দিষ্ট কিছু সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং নিজেদের দলীয় আদর্শে বিশ্বাসী বক্তাদের অনুষ্ঠানে সুযোগ দেয়া হত। এবার তার ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এবছর নতুন পুরাতন মিলে প্রায় একশো সাংস্কৃতিক সংগঠন মধুমঞ্চে তাদের, গান, কবিতা, নাটক, একক অভিনয়, কৌতুক অভিনয়সহ নানা পারফরমেন্স করার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে দর্শকরা বাড়তি আনন্দ উপভোগ করেন।
এব্যাপারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যশোরের যুগ্ম সদস্য সচিব সোহানুর রহমান সোহাগ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তি এই আয়োজন আমরা সকল সংকির্ণতার উর্দ্ধে উঠে আনন্দের সাথে উদযাপন করছি। স্বতস্ফর্তভাবে বিভিন্ন বয়সী মানুষ মেলায় আসছেন। তারা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করছেন এবং স্টলে কেনাকাটা ব্যস্ত সময় পার করছেন।
বিভিন্ন শ্রেণি পেশা ও মতাদর্শের মানুষ এবং প্রচলিত সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সাথে নতুন কিছু উদিয়মান সাংস্কৃতিক সংগঠনের অংশ গ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। এসব সংগঠনগুলোর শিল্পীরা তাদের নান্দনিক পরিবেশনা দিয়ে জয় করছেন দর্শক হৃদয়। তেমনি কয়েকটি সংগঠন প্রাচ্যসংঘ, প্রাচ্য আকাদেমি, জাসাস, ফুলকুঁড়ি আসর, তরঙ্গ থিয়েটার, যশোর থিয়েটার, তারার মেলা, বৈষম্যবিরোধী সাংস্কৃতিক জোট, যশোর সাংস্কৃতিক সংসদ ইত্যাদি। যারা উদীচি, বিবর্তন, সুরবিতান, কিংশুক সংগীত শিক্ষা কেন্দ্র সংগঠনগুলোর পাশাপাশি তাদের নান্দনিকতা প্রদর্শন করে প্রশংসা কুড়িয়েছে। এতদিন এসব সংগঠন এবং কবি-সাহিত্যিক ও বক্তাদের আমন্ত্রণ না জানিয়ে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হত। ৭দিন সাতটি যাত্রাপালাও অনুষ্ঠিত হচ্ছে এখানে।
আলোচনা এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশে অসংখ্য মানুষ ভীড় জমান মেলায় আসা স্টল গুলোতে। খুলনার ভাগ্নে মটকা চা ও তান্দুরি হাউস, বালিশ মিস্টিসহ হরেক রকম খাবারের পসরা। এছাড়া চরকা, নাগরদোলা, সার্কাস, যাদু প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন রাইডশেয়ার করার সুযোগ। ২৪ জানুয়ারি শুরু হওয়া মধুমেলা চলবে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত।