ঘুমের মধ্যে আচমকা শিরায় টান, ব্যথা কমাতে করণীয়
ছবি: সংগৃহীত
সুস্থ মানুষ, ভালোভাবে ঘুমিয়েছেন। হঠাৎ করেই মাঝরাতে ব্যথায় কুঁকড়ে উঠলেন। কারণ পায়ের পেশিতে টান ধরেছে। এমন সমস্যায় অনেকেই পড়েছেন। বিশেষত শীতে এই সমস্যা বাড়ে। এমনটা হলে পা সোজা করা কিংবা ভাঁজ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
শীতের দিনে পেশিতে টান পড়ার সমস্যা বেশি দেখা দেয়। কারণ এসময় ডিহাইড্রেশন হয় অনেক বেশি। শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হয়। ফলে পেশিতে টান ধরে বেশি। রাতে ঘুমানোর সময় সমস্যা বেশি হয়।
গবেষকদের মতে, অতিরিক্ত পরিশ্রম, দীর্ঘ সময় বসে বা দাঁড়িয়ে থাকা, ভারী কোনো বস্তু তুলতে গিয়ে টান পড়া, পানি কম পান করা, রক্তে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি ইত্যাদি কারণে এই সমস্যা হয়ে থাকে।
এই সমস্যাকে একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়। অনেক সময় ঘুমের মধ্যেই পেশিতে মারাত্মক টান পড়ে। জেগে থাকা অবস্থাতেও এই ম্যাসল ক্রাম্প হতে পারে তবে ঘুমের মধ্যেই হওয়ার আশঙ্কাই বেশি থাকে।
পেশিতে টান ধরলে কী করা উচিত? চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই টোটকা-
পেশির রিল্যাক্স
চিকিৎসকদের মতে, এই সমস্যা কমাতে প্রথমে পেশিকে রিল্যাক্স করার ব্যবস্থা করতে হবে। ফলে পেশির প্রসারণ ঘটবে এবং ব্যথাও কমবে। যদি কাপ ম্যাসলে টান পড়ে তাহলে পা মেলে বসে হাত দিয়ে পায়ের আঙ্গুলগুলো নিজের দিকে টানার চেষ্টা করুন।
উরুর পিছনের পেশিতে টান ধরলে চিৎ হয়ে শুয়ে পা ভাঁজ করে হাঁটু বুকের দিকে নিয়ে আসুন যতটা পারা যায়। এরপর উরুর পেছনের পেশিতে আলতো হাতে মালিশ করুন। চাইলে হট ব্যাগ ব্যবহার করতে পারেন।
আইসব্যাগ ব্যবহার
পেশি অতিরিক্ত ফুলে গেলে আইসব্যাগ দিয়ে ঠান্ডা সেঁক দিন। মুভ বা ভিক্স জাতীয় ব্যথানাশক বাম বা জেল ব্যবহার করতে পারেন। পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম জাতীয় খাবার খান। শাক-সবজি, ফল, খেজুর, দুধ ও মাংসতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম রয়েছে।
পর্যাপ্ত পানি পান
সারা দিনে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। শরীরে পানির ভারসাম্য রক্ষা করতে ডাবের পানি বা লেবু-জলও খেতে পারেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শরীরে পানির ঘাটতির জন্যই মাসল ক্র্যাম্প হয়।
এমন সমস্যা কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। সমস্যা বেশি বাড়াবাড়ি পর্যায়ে গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।