ব্যাথা প্রশমন করে স্বাভাবিক ডেলিভারি সেবা দিচ্ছে যশোর পুলেরহাট আদ্-দ্বীন হাসপাতাল
ছবি: প্রতিনিধি
টিআই তারেক: প্রসূতি মায়েদের সিজারিয়ান ডেলিভারি থেকে স্বাভাবিক ডেলিভারিতে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে যশোর পুলেরহাটস্থ আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
হাসপাতালটির প্রসূতি এবং অ্যানেস্থেশিয়লজি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে গর্ভবতি মায়েদের সিজার অপারেশনের প্রবনতা থেকে ফিরিয়ে এনে ব্যাথা প্রশমন করে সফলভাবে স্বাভাবিক ভ্যাজাইনাল ডেলিভারি কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
এই কার্যক্রমের মাধ্যমে ১ম বাচ্চা সিজারের মাধ্যমে ডেলিভারি হলেও পরবর্তি প্রেগনেন্সিতে স্বাভাবিক ভ্যাজাইনাল ডেলিভারি করা যে সম্ভব; সে বিষয়ে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
দেশে মাত্রারিক্ত সিজারের সংখ্যা কমিয়ে আনতে সিজারিয়ান প্রেগনেন্সি মাকেও ব্যাথা প্রশমন করে স্বাভাবিক ডেলিভারিতে উদ্বুদ্ধ করছে আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
যশোর সদর উপজেলার নওদা গ্রামের একজন মা রত্না খাতুন। তার কোলজুড়ে পৃথিবীতে এসেছে ফুটফুটে একটি কন্যা সন্তান। রত্নার গর্ভের প্রথম সন্তান তার কোলের নবজাতক। ব্যাথা প্রশমন করে কিভাবে স্বাভাবিক ডেলিভারি সম্ভব হলো? সেই কথা রত্না বলতে গিয়ে বলেন, আমরা শুরু থেকে স্বাভাবিক ডেলিভারি করাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু জানতাম না আদ-দ্বীন হাসপাতালে ব্যাথা কমিয়ে স্বাভাবিক ডেলিভারি হয়। এখান চিকিৎসক এবং নার্সরা মিলে আমার ব্যাথা প্রশমন করে আমার ডেলিভারি হয়েছে। এতে আমি খুবই খুশি। আমি আমার সন্তান সুস্থ আছি। এত খরচও কম। মাত্র ৫০০০ হাজার টাকা।
রত্নার বাবার জিন্নাত আলী হাসপাতালটির এই কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
যশোর ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি এবং অ্যানেস্থেশিয়লজি বিভাগের অভিজ্ঞ চিকিৎসক এবং নার্সদের সমন্বয়ে মূলত এই আধুনিক চিকিৎসা সেবা কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে। টিমে রয়েছেন অ্যানেস্থেশিয়লজি বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. আফজাল হোসেন খান। তার নেতৃত্বে তিনজন মহিলা অ্যানেস্থেশিস্ট ডা. রায়হানা মুস্তারি, ডা. শেখ শামসুন মুনিরা ও ডা. সানজিদা জেরিন।
বিশেষজ্ঞদের মতে সিজারিয়ান ডেলিভারির পরও ৭০-৭৫ ভাগ মা পরবর্তী প্রেগনেন্সিতে নরমাল ডেলিভারির জন্য উপযুক্ত থাকেন। প্রথমবার সিজারিয়ান হওয়ার পরও দ্বিতীয়বার নরমাল ডেলিভারি হওয়া সম্ভব। তবে এটি নির্ভর করে মূলত চিকিৎসক ও সেবিকাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও কাউন্সিলিং এর ওপর।
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের সিজারিয়ান প্রেগনেন্সি রোগীকে ব্যাথা প্রশমনের মাধ্যমে স্বাভাবিক ডেলিভারি করছেন। এতে প্রসুতি মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ থাকেন।
সিজার অপারেশনের প্রবনতা থেকে রোগীদের ফিরিয়ে এনে নিরাপদ মাতৃত্বের উদ্দেশ্যে আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বাভাবিক ডেলিভারিকে উৎসাহিত করতে এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানালেন হাসপাতাল পরিচালক ডা. মোঃ ইমদাদুল হক।