নরসিংদীতে মায়ের হাতে সন্তানের মৃত্যু
প্রতিকী ছবি
নরসিংদীর রায়পুরায় আনাছ মিয়া নামে তিন বছরের শিশু পুত্রকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মা শিরিন আক্তারের বিরুদ্ধে। শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পবিত্র মাহে রমজানের তারাবির নামাজের সময় উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ মির্জানগর এলাকায় এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর রবিবার দুপুরে নিহতের মাকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা করেন আনাসের দাদা।
এর আগে সকালে অভিযুক্ত মাকে আটক করে পুলিশে দেয় এলাকাবাসী।অভিযুক্ত শিরীন আক্তার (২৫) সৌদি প্রবাসী ডালিম মিয়ার স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৫ বছর আগে ডালিম মিয়া পারিবারিক ভাবে বিয়ে করেন একই উপজেলার হাইরমারা এলাকার শিরিন আক্তারকে। বিয়ের তিন বছর পর পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা ও জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। এরপর শিরিন আক্তার তাদের একমাত্র সন্তান আনাছকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছিলেন।
প্রবাসে থাকা স্বামী ডালিম মিয়ার সাথে দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়া চলে আসছিলো শিরীন আক্তারের। এসব পারিবারিক দ্বন্ধের কারণেই শিশু পুত্র আনাছকে কুপিয়ে হত্যা করেছে পাষাণ মা শিরিন আক্তার। এ সময় পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে পাশের কক্ষে তারাবি নামাজ আদায় করছিলেন শিশুটির দাদী। চিৎকার শুনে ছুটে এসে তিনি নাতির রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান।
কেন মা তার সন্তানকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে এ বিষয়টি বুঝতে পারছেন না বলে জানান আনাছের দাদী । শিশু পুত্রকে হত্যা করে পুত্রবধূ শিরিন আক্তার পালিয়ে যায়।
এ ঘটনার পর রবিবার সকাল ৯টার দিকে ঘাতক মা শিরিন আক্তারকে একই ইউনিয়নের হাসনাবাদ গ্রামে রেললাইনের পাশে বসে থাকতে দেখে আটক করে জনতা এবং ছেলেকে হত্যার কারণ জানতে চাইলে কিছু না বলে মাথা নত করে রাখে। পরে এলাকাবাসী তাকে পুলিশের হাতে হস্তান্তর করে।
আমিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আবু বক্কর জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শুনেছি মা তার সন্তানকে খুন করে পালিয়ে গেছে।
কি কারনে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে তা বুঝতে পারছি না। তবে যে মায়ের কাছে তার সন্তান নিরাপদ না তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।
এব্যাপারে শিরিন আক্তারের শ্বশুর ও নিহত আনাছের দাদা রহম আলী বলেন, আমার ছেলের বউ এর মাথায় কিছু সমস্যা রয়েছে। আনাছের জন্মের পর থেকেই তার মা তাকে মারধর করত। সে কারণে আমরাই আনাছকে লালন পালন করে বড় করেছি। তার মায়ের কাছে বেশি দিতাম না। গতরাতে আমার নাতিকে আদর করে ঘুম পাড়িয়ে নামাজে যাই। পাশে বসা ছিল তার মা। পরে জানতে পারি আমার নাতিকে কুপিয়ে সে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। রাতে আর তাকে খোঁজে পাওয়া যাইনি। সকালে এলাকাবাসী তাকে আটক করে খবর দিলে আমরা ছুটে আসি।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহমুদ জানান, হত্যাকান্ডের সংবাদ শুনার সাথে সাথে রায়পুরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় দুপুরে থানায় নিহত আনাছের দাদা রহম আলী বাদী হয়ে মা শিরীন অক্তারকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেছে। গ্রেপ্তারকৃত মাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।