তিন জমজ বোনকে সাথে নিয়ে পৃথিবীতে এলো সিয়াম

তিন জমজ বোনকে সাথে নিয়ে  পৃথিবীতে এলো সিয়াম

ছবি: প্রতিনিধি

টিআই তারেক: দেড় বছরের মাথায় আবারও এক সাথে চার জমজ সন্তানের জন্ম হয়েছে যশোর রেল রোডস্থ আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার শুটিয়া গ্রামের মোদাচ্ছের আলী ও সুমাইয়া আক্তার সুইটি দম্পতির ঘরে একসঙ্গে ৪ সন্তানের জন্ম হলো। এদের মধ্যে একটি পুত্র সন্তান অন্যরা কন্যা।  
নবজাতকদের মধ্যে প্রথম জন্ম নেয় পুত্র সন্তান। এরপর একে একে আরও তিনটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। পবিত্র মাহে রমজানে জন্ম নেয়ায় পরিবার ইতিমধ্যে পুত্র সন্তানের নাম রেখেছে সিয়াম। কন্যা সন্তানগুলোর নাম এ রিপোর্ট তৈরি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়নি।

৬ মার্চ ২০২৫ বৃহস্পতিবার বিকেলে সিজারিয়ান সেকশনের মাধ্যমে নবজাতকদের জন্ম হয়। সার্জন ছিলেন হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. শীলা পোদ্দার। বিয়ের ৩ বছর পর মোদাচ্ছের-সুইটির কোল আলো করে চার চারটি সন্তানের জন্ম হওয়ায় দারুন খুশি তারা। সিজারের আগ পর্যন্ত মা-বাবা জানতেন গর্ভে দুটি সন্তান রয়েছে।

নবজাতকদের কোলে নিয়ে সুখানিভ‚তি প্রকাশ করলেন নানী এবং দাদীরা। লালন পালনে সবার দোয়া চাইলেন তারা। মা সুমাইয়া আক্তার সুস্থ আছেন। নবজাতক চারটি হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মশিউল হাসনাতের তত্ত¡াবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন নবজাতকগুলো নির্দিষ্ট সময়ের আগে ভ‚মিষ্ট হওয়ায় তাদের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে কম। তাদের শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতি হলে ছেড়ে দেয়া হবে বলে জানালেন হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. শীলা পোদ্দার। তিনি আরও বলেন, দুটি প্লাসেন্টায় (বাচ্চার ফুল) চারটি নবজাতকের জন্ম হয়েছে। একটিতে পুত্র সন্তান অন্যটিতে তিন কন্যা। দুটি সন্তান গর্ভে ধরে নিয়েই সিজার করছিলেন তিনি। কিন্তু দুটি শিশু জন্মের পর ৩য় এবং ৪র্থ শিশুকে গর্ভে দেখে আশ্চর্য হন অপারেশন থিয়েটারা থাকা চিকিৎসক এবং নার্সরা। মায়ের শারীরিক অবস্থা দেখে বোঝার উপায় ছিল না, যে গর্ভে চারটি বাচ্চা আছে। ঘটনাটি চমকপ্রদ বলছেন তিনি।

প্রায় দেড় বছর আগে ২০২৩ সালের ৪ অক্টোবর এই হাসপাতালে একই উপজেলার হাশাদা শুটিয়া গ্রামের জিয়াউর রহমান ও তহমিনা দম্পতির কোল জুড়ে জমজ চার নবজাতকের জন্ম হয়েছিল। এক সাথে চার জমজ শিশুর জন্ম নেয়ার ঘটনা এই হাসপাতালে এটি দ্বিতীয়। মাহে রমজানে এমন ঘটনা মহান আল্লাহর রহমত বলছেন সবাই। খুশি হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরাও।

হাসপাতালের ম্যানেজার শাহীনা ইয়াসমিন বললেন, তার চাকরি জীবনে এই প্রতিষ্ঠানে এটি দ্বিতীয় ঘটনা। নবজাতকদের পরিবারের সাথে হাসপাতালের চিকিৎসক নার্সদের মধ্যেও ঈদের আনন্দ বয়ে যাচ্ছে। খবর শুনে আশ-পাশের ওয়ার্ডের রোগীরা নবজাতকদের দেখতে ভীড় করছেন। তারাও তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলছেন এটা মহান আল্লাহর কুদরত।