বিএসইসি হামলায় দ্রুত আইনি ব্যবস্থা চান প্রশাসনিক কর্মকর্তারা
ফাইল ছবি
সম্প্রতি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ভবনে একদল উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি হামলা চালায়। হামলাকারীরা বিএসইসির চেয়ারম্যান ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের প্রায় চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।
শনিবার (৮ মার্চ) এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এই দাবি জানায়। এতে বলা হয়, বুধবারের হামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং অবরুদ্ধ কর্মকর্তাদের উদ্ধার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন হামলাকারীদের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায়। সংগঠনটি মনে করে, এমন উচ্ছৃঙ্খল আচরণ শুধু আইনবিরোধী নয়, প্রশাসনিক কার্যক্রমের জন্যও মারাত্মক হুমকি।
অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব শফিউল আজিম এবং সভাপতি নজরুল ইসলাম এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা আশা করি প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নেবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা আর না ঘটে।’ তারা আরও জানান, হামলার পর প্রশাসনের কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা এড়াতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
এ ঘটনার পর দেশের প্রশাসনিক সিস্টেমের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে, এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জনগণের প্রত্যাশা বেড়ে গেছে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
পোশাক ও বস্ত্র খাতের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় দাবি
পোশাক ও বস্ত্র খাতের জন্য একটি আলাদা মন্ত্রণালয়ের দাবি জানিয়েছেন শিল্পমালিকেরা। তারা বলছেন, একক খাত হিসেবে রপ্তানি আয়ের বড় উৎস পোশাক খাত। তবে বৈশ্বিক ও স্থানীয় নানামুখী নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এসব মোকাবিলা করতে দীর্ঘমেয়াদি নীতি দরকার। এ জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন করা জরুরি।
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে পোশাকমালিকেরা এসব কথা বলেন। বিজিএমইএ নির্বাচনী জোট-ফোরাম সাধারণ ব্যবসায়ীদের নিয়ে এই আলোচনা ও ইফতারের আয়োজন করে। ব্যবসায়ী নেতারা এ সময় বলেন, বিগত দিনে তাদের সংগঠন বিজিএমইএ দলীয় কার্যালয়ে পরিণত হয়, যা দুঃখজনক। হারানো ভাবমূর্তি ফেরাতে হবে।
অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীরা বলেন, আগামী দিনে যারা বিজিএমইএর নেতৃত্ব দেবেন, তারা যাতে কেবল কার্ড বহনকারী পরিচালক হিসেবে পরিচিতি না পান। তাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে। দেশের স্বার্থে পোশাক খাতের জন্য নির্দেশনা দিতে হবে। অন্যথায় শিল্প টিকবে না।
এ সময় ফোরাম প্যানেল নেতা মাহমুদ হাসান খান বলেন, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নীতিসহায়তা দরকার পোশাক খাতের জন্য। এই খাত নিয়ে দেশি–বিদেশি ষড়যন্ত্র চলে সব সময়। শ্রমিক অসন্তোষের নামে নৈরাজ্য তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন সময়। এর পেছনে রাজনীতি জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। কারণ, শ্রমিকেরা তাদের রুটিরুজি নষ্ট করতে পারেন না। একই সঙ্গে কাস্টমসের নিরীক্ষা হয়রানি থেকে উদ্যোক্তাদের রেহাই দিতে হবে। আর টেকসই নীতির জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় দরকার।
ফোরাম মহাসচিব রশিদ আহমেদ হোসাইনী বলেন, সংবাদমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে, এরই মধ্যে প্রায় ৭০০ ভুয়া ভোটার শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের ভোটাধিকার বাতিল করা হয়েছে। এটি খুব লজ্জার।
তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে, এই খাত ছাড়া বাংলাদেশের অর্থনীতি টিকিয়ে রাখা যাবে না। আর বিজিএমইএকে কোনো দলীয় কার্যালয়ে পরিণত করা যাবে না।
বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান সিনহা বলেন, ব্যবসা সরকার বোঝে না, সরকারকে বোঝানোর দায়িত্ব আমাদের। যেকোনো সমস্যা সমাধানের জন্য সংগঠন হিসেবে বিজিএমইএকে ভূমিকা নিতে হবে। আন্তর্জাতিক ব্যবসার জন্য যেসব সমস্যা তৈরি হচ্ছে, সেগুলো ঠিকভাবে তুলে ধরা হচ্ছে না। মালিকেরা খুব হতাশাভাবেই কাজ করছে। সমস্যাটা সবার।