মজলুমের পাশে না দাঁড়ানোর পরিণাম

মজলুমের পাশে না দাঁড়ানোর পরিণাম

ছবিঃ সংগৃহীত

পৃথিবীর বিভিন্ন ভূখণ্ডে আজ মুসলিম উম্মাহ নির্যাতিত, নিপীড়িত। বিশেষ করে ফিলিস্তিনের মুসলমানরা। একজন মুসলমান হিসেবে কথা ছিল তাদের পাশে সার্বিকভাবে সহযোগিতার হাত বাড়ানো এবং জালেম শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

কিন্তু মুসলিম উম্মাহর নির্লিপ্ততা আর নীরব দর্শকের ভূমিকা ছাড়া যেন কিছুই করার নেই! অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবীগণ ছিলেন একে ওপরের প্রতি জীবন উৎসর্গকারী।

মজলুমের পক্ষে শক্ত অবস্থানকারী আর জালিমের বিপক্ষে তুমুল প্রতিরোধকারী। তাঁরা ছিলেন এই হাদিসেরই জ্বলন্ত উদাহরণ, ‘মুমিনদের দৃষ্টান্ত তাদের পারস্পরিক সম্প্রীতি, দয়াদ্রতা ও সহমর্মিতার দিক দিয়ে একটি মানবদেহের মতো, যখন তার একটি অঙ্গ অসুস্থ হয় তখন তার সমগ্র দেহ তাপ ও অনিদ্রা ডেকে আনে। (মুসলিম : ৬৩৫০)। 

 

কিন্তু আমাদের অবস্থা যেন সম্পূর্ণ উল্টো। হাজার হাজার মুসলিম, মুমিনকে চোখের সামনে শেষ করে দেওয়া হচ্ছে- কিছুই করতে পারছি না আমরা। অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মানুষ যখন জালিমকে জুলুম করতে দেখে তখন তারা যদি তার হাত ধরে প্রতিহত না করে, তা হলে আল্লাহতায়ালা অতি শিগগিরই তাদের সবাইকে তার ব্যাপক শাস্তিতে নিক্ষিপ্ত করবেন। (তিরমিজি : ২১৬৮)

আরেক হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি এমন স্থানে অপর মুসলিমের সাহায্য পরিত্যাগ করে, যেখানে তার সম্ভ্রম-মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়, আল্লাহ তাকে এমন স্থানে সাহায্য করা থেকে বিমুখ থাকবেন, যেখানে সে তাঁর সাহায্য কামনা করে। আর যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের সম্ভ্রম-মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়ার স্থানে তাকে সাহায্য করে, আল্লাহ তাকে এমন স্থানে সাহায্য করবেন, যেখানে সে তাঁর সাহায্য প্রত্যাশা করে। (আবু দাউদ: ৪৮৮৪)।

 

জালিমকে যেকোনোভাবে প্রতিহত করতে হবে। বুঝিয়ে হলে বুঝিয়ে অথবা অন্য কোনো পদ্ধতিতে। রাসুলুল্লাহ (সা.) এক হাদিসে বলেন, ‘তুমি তোমার ভাইকে সাহায্য করো, সে জালেম হোক বা মজলুম। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল, মজলুমকে সাহায্য করব, তা তো বুঝলাম। কিন্তু জালেমকে কীভাবে সাহায্য করব? তিনি বললেন, তুমি তার হাত ধরে তাকে জুলুম থেকে বিরত রাখবে। (বুখারি: ২৪৪৪)

লেখক: শিক্ষক, হাজারীবাগ মাদ্রাসা