পাকিস্তান-ভারত আকাশযুদ্ধটি সাম্প্রতিক ইতিহাসে দীর্ঘতম
সংগৃহীত
পাকিস্তান ও ভারতের যুদ্ধবিমানের মধ্যে সংঘটিত ‘ডগফাইট’ বা আকাশযুদ্ধকে সাম্প্রতিক বিমান চলাচলের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে বড় ও দীর্ঘস্থায়ী’ সংঘর্ষগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করেছেন পাকিস্তানের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা।
সূত্র জানায়, এই সংঘর্ষটি এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে এবং এতে দুই পক্ষই নিজেদের আকাশসীমার মধ্যেই থেকে দূরপাল্লার মিসাইল নিক্ষেপ করে—কখনও কখনও ১৬০ কিলোমিটার (১০০ মাইল) দূর থেকেও হামলা চালানো হয়।
পাকিস্তানের এ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই দেশের বিমানের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা ডগ ফাইট (সম্মুখ লড়াই) হয়। আর এ যুদ্ধকে আধুনিক সময়ের সবচেয়ে ‘বড় এবং দীর্ঘ ডগ ফাইট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।
তিনি জানিয়েছেন, পাকিস্তানের ১২৫টি যুদ্ধবিমান পাল্টা হামলায় অংশ নেয়। তবে দুই দেশের কোনো বিমানই একে অপরের অংশে প্রবেশ করেনি। তিনি বলেছেন, পাকিস্তান ও ভারতীয় বিমানের মধ্যে ১৬০ কিলোমিটার দূর থেকে মিসাইল ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে।
২০১৯ সালে দুই দেশের যুদ্ধবিমানের মধ্যে ডগফাইট হয়েছিল। সেবার এক ভারতীয় বিমান নিজেদের ভূখণ্ডে ভূপাতিত করেছিল পাকিস্তান। ওই সময় অভিনন্দন নামে এক পাইলটকে আটক করে তাকে টিভির সামনে আনা হয়েছিল। তবে দুই দেশের কেউই এবার এমনটি চায়নি। তাই কোনো দেশই তাদের পাইলটদের সীমান্ত অতিক্রম করতে অনুমোদন দেয়নি।
এ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাকিস্তানে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে ভারতের বিমানকে একাধিকবার চেষ্টা করতে হয়েছে। এ সময় সম্ভাব্য হামলাস্থলের সাধারণ মানুষকে যথাসম্ভব সতর্ক করার চেষ্টা করেছে পাক সেনাবাহিনী। এতে তারা হতাহতের সংখ্যা অনেকটা কমিয়ে আনতে সমর্থ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের এ কর্মকর্তা।
ভারতের ২১টি বিমানবন্দর ১০ মে পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা
ভারতের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ২১টি বিমানবন্দর যাত্রীবাহী ফ্লাইটের জন্য আগামী ১০ মে ভোর ৫টা ২৯ মিনিট পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সরকারের নির্দেশে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। খবর দ্য হিন্দু’র।
বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় সূত্রে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু পত্রিকার হাতে আসা একটি নোটিশ টু এয়ারম্যান (এনওটিএএম)-এ জানানো হয়েছে, এই বিমানবন্দরগুলো ১০ মে সকাল পর্যন্ত সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচলের বাইরে থাকবে।
এই তালিকায় জম্মু-কাশ্মীর ও লেহ-এর পাশাপাশি পাঞ্জাব, হিমাচল প্রদেশ, রাজস্থান এবং গুজরাট রাজ্যের একাধিক বিমানবন্দর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এতে ভারতের অভ্যন্তরীণ রুটে বিপুল সংখ্যক ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে দেশটির এয়ারলাইন্সগুলো।
এনওটিএএম অনুযায়ী, জম্মু ও শ্রীনগর (জম্মু-কাশ্মীর), লেহ; অমৃতসর, চণ্ডীগড়, পাতিয়ালা, হালওয়ারা (পাঞ্জাব); শিমলা ও ধরমশালা (হিমাচল প্রদেশ); যোধপুর, বিকানের, জয়সলমের, কিশনগড় (রাজস্থান); এবং ভূজ, জামনগর, রাজকোট, মুন্দ্রা, পোরবন্দর, কান্ডলা, কেশোদ (গুজরাট) বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এছাড়াও গোয়ালিয়র ও হিন্দন বিমানবন্দরেও ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে বলে এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জানিয়েছে বিভিন্ন এয়ারলাইন্স।
উল্লেখ্য, এই বিমানবন্দরগুলোর অনেকগুলোই ভারতীয় বিমানবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে ব্যবহার করে বেসামরিক বিমান সংস্থাগুলো।
ইন্ডিগো এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ১০ মে সকাল ৫টা ২৯ মিনিট পর্যন্ত ১১টি বিমানবন্দরের ১৬৫টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এয়ার ইন্ডিয়াও ৯টি বিমানবন্দরে ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস বন্ধ করেছে অমৃতসর, গোয়ালিয়র, জম্মু, শ্রীনগর এবং হিন্দনের ফ্লাইট।
স্পাইসজেট বাতিল করেছে লেহ, শ্রীনগর, জম্মু, ধরমশালা, কান্ডলা ও অমৃতসরের ফ্লাইট। আকাসা এয়ার জানিয়েছে, তারা ৯ মে পর্যন্ত শ্রীনগরের সব ফ্লাইট বাতিল করেছে।