আলোকচিত্রীরাই ইতিহাসবিদ: ড. শহিদুল আলম

আলোকচিত্রীরাই ইতিহাসবিদ: ড. শহিদুল আলম

সংগৃহীত

বান্দরবানে শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী ‘শত বছরের আলোকচিত্র প্রদর্শনী’।

মঙ্গলবার (১৩ মে) বিকেল সাড়ে ৪টায় বান্দরবানের রাজার মাঠে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন প্রখ্যাত আলোকচিত্রী ও দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা ড. শহিদুল আলম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আলোকচিত্রীরাই প্রকৃত ইতিহাসবিদ। তারাই ইতিহাস সংরক্ষণ করেন এবং ঐতিহ্য ধরে রাখেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ছবি তোলা যথেষ্ট নয়, ছবির ইতিহাসও সংরক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। উন্নত দেশগুলো ঐতিহ্য রক্ষায় জাদুঘর ও বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করে, আমাদেরও সেই পথে এগোতে হবে।’

চার দিনব্যাপী প্রদর্শনীটি আয়োজন করেছে দৃক গ্যালারি। এখানে প্রদর্শিত হয়েছে ১৯০৯ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জনপদের ১০১ বছরের আলোকচিত্র। এতে স্থান পেয়েছে ৮ জন আদিবাসী শৌখিন আলোকচিত্রীর ১০৩টি বাছাইকৃত ছবি।

প্রদর্শনী দেখতে আসা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ও শৌখিন আলোকচিত্রী আমির হোসেন মাসুম বলেন, ‘বান্দরবানকে এতদিন শুধু পর্যটন স্পট হিসেবেই দেখা হতো, কিন্তু এই প্রদর্শনীতে এসে বোঝা যাচ্ছে এর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য কতটা সমৃদ্ধ। ১৯০৯ সালেও এখানে স্টুডিও ছিল, যা এক বিস্ময়।’

বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক নুক্রাচিং মারমা বলেন, ‘নিজের জন্মের আগের সময়ের ছবি, এমনকি ব্রিটিশ আমলে রানী এলিজাবেথের শাসনামলের রাজপরিবারের ছবি দেখে অভিভূত হয়েছি। সেই সময় পাহাড়িদের জীবনযাত্রা ছিল শান্তিপূর্ণ।’

রাজপুত্র ও আলোকচিত্রী নু শৈ প্রু চৌধুরী বলেন, ‘৮০’র দশক থেকে শখের বসে ছবি তুলতাম। বিদেশ ভ্রমণে গিয়ে সেল্ফ-টাইমার দিয়ে তোলা সেই ছবিগুলো আজ ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠেছে। তখন ছবির গুরুত্ব বোঝা যেত না, তাই স্থান ও সময় সংরক্ষিত হয়নি।’

রাজপুত্র ও শৌখিন আলোকচিত্রী মংঙোয়েপ্রু বলেন, ‘অনেক ছবি তোলা হলেও তার সময়, প্রেক্ষাপট মনে নেই। তখন গুরুত্ব বুঝিনি বলে অনেক মূল্যবান ছবি নষ্ট হয়ে গেছে।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- নৃবিজ্ঞানী অধ্যাপক রেহনুমা আহমেদ, সিনিয়র সাংবাদিক বুদ্ধজ্যোতি চাকমা, শৌখিন আলোকচিত্রী মং শৈ ম্রায় ও ডা. চিংশোয়ে প্রু বাচিং প্রমুখ।

প্রদর্শনীটি ১৩ মে থেকে ১৬ মে পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

মঙ্গলবার বিকেলে দৃক গ্যালারির আয়োজনে বান্দরবান রাজার মাঠে শুরু হয়ে শতবছরের আলোকচিত্র প্রদর্শনী।