গাজায় খাদ্য গুদামে ‘ক্ষুধার্ত মানুষেরা’
ছবি: সংগৃহীত
মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ শহরে এক খাদ্যগুদামে দলে দলে ঢুকে পড়েছেন ‘ক্ষুধার্ত মানুষ’। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, ২৮ মে শহরের আল-ঘাফারি এলাকায় অবস্থিত একটি খাদ্যগুদামে এই ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত দুজন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ডব্লিউএফপির বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রায় তিন মাস ধরে চলা ইসরায়েলি অবরোধের ফলে গাজায় মানবিক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। সংস্থাটি আরও বলেছে, “পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।” গত সপ্তাহে কিছুটা অবরোধ শিথিল করা হলেও তা মোটেও যথেষ্ট নয়।
এএফপির ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ক্ষুধার্ত মানুষ খাদ্যের বস্তা ও ময়দার প্যাকেট নিয়ে যাচ্ছেন এবং সেই সময় গুলির শব্দ শোনা যায়। তবে গুলি কোথা থেকে এসেছে, তা তখনও স্পষ্ট নয়।
ডব্লিউএফপি জানায়, গুদামটিতে পূর্ব থেকেই খাদ্য মজুত ছিল, যা বিতরণের জন্য প্রস্তুত ছিল। কিন্তু নিরাপত্তার অভাবে এই সহায়তা সুষ্ঠুভাবে মানুষের হাতে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির পক্ষ থেকে বলা হয়, গাজায় অবিলম্বে খাদ্য সহায়তা বাড়ানো প্রয়োজন। মানুষ যেন অনাহারে না মারা যায়, সে নিশ্চয়তা নিশ্চিত করতে হবে। “আমরা বারবার সতর্ক করেছি, পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে যাচ্ছে,” বলেছে সংস্থাটি।
গতকাল ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১২১টি ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে, যার মধ্যে ছিল ময়দা ও খাদ্যসামগ্রী। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–সমর্থিত বিতর্কিত সংস্থা গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) দক্ষিণ ও মধ্য গাজায় চারটি বিতরণকেন্দ্র চালু করেছে।
জাতিসংঘ একে পাশ কাটিয়ে পরিচালিত একটি “অকার্যকর ও অনৈতিক” পদক্ষেপ বলে আখ্যা দিয়েছে। রাফাহ শহরের এক জিএইচএফ বিতরণকেন্দ্রে অতিরিক্ত ভিড় ও গুলিতে অন্তত ৪৭ জন আহত হয়েছেন বলে জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয় জানিয়েছে।
জাতিসংঘ জানায়, ত্রাণবাহী ট্রাক থেকেও মানুষ জিনিসপত্র লুট করছে। তবে হামাসের মাধ্যমে ত্রাণ চুরির অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই বলেই জানিয়েছে ফিলিস্তিনে জাতিসংঘ মানবিক দপ্তরের প্রধান জোনাথন হুইটল। বরং তিনি ইঙ্গিত দেন, কেরেম শালোম সীমান্ত এলাকায় কিছু অপরাধী চক্র লুটপাটে জড়িত, যাদের কাজ করতে ইসরায়েলি বাহিনী অনুমতি দিচ্ছে।
জাতিসংঘ মনে করে, যুদ্ধবিরতির সময় যেভাবে দ্রুত ও সুষ্ঠভাবে ত্রাণ বিতরণ সম্ভব হয়েছিল, ঠিক তেমনই একটি সমন্বিত উদ্যোগ এখন জরুরি। তা না হলে খাদ্য লুট, বিশৃঙ্খলা ও প্রাণহানি আরও বাড়বে। গাজায় এখন সবচেয়ে বড় যুদ্ধটা ক্ষুধার বিরুদ্ধে।