ব্লিচিং পাউডার দিয়ে পরিষ্কার করলেই কি পানির ট্যাংক জীবাণুমুক্ত হয়?
ছবি: সংগৃহীত
এলাকার বড় পানির ট্যাংক হোক কিংবা বাসা-বাড়ির ছোট ট্যাংক— দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর তা নোংরা হয়ে যায়। পানির ট্যাংক পরিষ্কার করতে সাধারণত ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করা হয়। এতে জীবাণুনাশ হলেও শরীরের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
পানি পরিশ্রুত করতে প্রায়ই ব্লিচিং পাউডারের ব্যবহার করা হয়। কিন্তু অনেকেই জানেন না পানিতে এই উপাদান মেশালে কী ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়া হয়। যা অনেক জটিল অসুখের কারণ হতে পারে।
ভারতের ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স’ ২০২৩ সাল থেকে ব্লিচিং পাউডারের ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে গবেষণা করছে। এ বিষয়ে ‘পাব মেড’ জার্নালে ‘ব্লিচ টক্সিসিটি’ নামে গবেষণামূলক প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে গবেষকেরা জানিয়েছেন, পানি পরিশুদ্ধ করতে বা জীবাণুনাশের কাজে ব্লিচিং পাউডারের প্রয়োগ বেশি হচ্ছে। যা ক্যানসার, লিভারে বিষক্রিয়া, শ্বাসনালিতে সংক্রমণের কারণ হয়ে উঠছে।
ব্লিচিং পাউডারে ৩ থেকে ৮ শতাংশ ক্যালশিয়াম হাইপোক্লোরাইট থাকে। আরও থাকে সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড। ব্লিচিং পাউডার যদি অন্য কোনো জীবাণুনাশক তরল বা ভিনেগারের সঙ্গে মেশে তা হলে বিষাক্ত ক্লোরিন গ্যাস তৈরি করবে। ট্যাংক পরিষ্কারের সময়ে ব্লিচিং পাউডারের সঙ্গে নানা রকম জীবাণুনাশক তরলও মেশানো হয়। এতে ক্ষতিকর ক্লোরিন গ্যাস তৈরি হয়।
এটি ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ধ্বংস করলেও যদি পানির সঙ্গে মানুষের শরীরে ঢোকে তাহলে প্রথমে শ্বাসনালিতে প্রদাহ তৈরি করবে। চোখ, নাক ও ফুসফুসে বিষক্রিয়ার কারণ হবে। মারাত্মক শ্বাসকষ্ট হবে। হাঁপানি বা সিওপিডির রোগী হলে তার অবস্থা সঙ্কটজনক হয়ে উঠবে।
খাদ্যনালি ও পাকস্থলীর জন্য বিষ ব্লিচিং পাউডার। ব্লিচিং মিশ্রিত পানি যদি কেউ খান, তাহলে তার পাকস্থলীতে প্রদাহ শুরু হবে। দীর্ঘ সময় ধরে এটি পেটে গেলে আলসার হতে পারে। শিশু ও বয়স্কদের জন্য যা বিপজ্জনক। হার্টের রোগ, কিডনির অসুখ বা কোনো রকম কোমর্বিডিটি থাকলে তা প্রাণসংশয়ের কারণও হয়ে উঠতে পারে।
গবেষকদের মতে, ব্লিচিং এমন এক রাসায়নিক যা পানির সংস্পর্শে এলে আরও কিছু ‘ডিজইনফেকশন বাইপ্রোডাক্ট’ (ডিবিপি) তৈরি করে। এর অধিকাংশই ক্যানসারের জন্য দায়ী। যদি পানিতে অতিরিক্ত ব্লিচিং মেশে, তাহলে ব্লাড ক্যানসারও হতে পারে। ব্লিচিং থেকে ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ে।
ট্যাংক পরিষ্কারের উপায়:
চিকিৎসকের মতে, ব্লিচিং পাউডার দিয়ে ধাতব বা প্লাস্টিকের ট্যাংক পরিষ্কার করলে, তা ধাতুর সঙ্গে বিক্রিয়া করে ক্ষতিকর রাসায়নিক তৈরি করে। প্লাস্টিকের সূক্ষ্ম কণা মাইক্রোপ্লাস্টিকের সঙ্গে মিশে আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। সেক্ষেত্রে যদি ব্লিচিং ব্যবহার করতেই হয়, তাহলে সামান্য পরিমাণে মেশাতে হবে। সেই পানিতে অ্যামোনিয়া বা অন্য কোনো রাসায়নিক মেশানো যাবে না।
ব্লিচিং মিশ্রিত পানি দিয়ে ট্যাংক পরিষ্কার করার পরে, অন্তত বার চারেক তা পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুতে হবে। এরপর ঘণ্টাখানেক অপেক্ষা করে আবারও পানি ফেলে দিয়ে তারপর পরিষ্কার পানি ভরতে হবে। কোনোভাবেই যেন রাসায়নিকের একটি কণাও পরিষ্কার পানিতে না মেশে তা নিশ্চিত করতে হবে।
পানির ট্যাংক পরিষ্কার করার মেডিসিন:
ব্লিচিং পাউডারের বিকল্প হিসেবে ইউভি ডিজইনফেকশন বা ক্লোরিন ডাইঅক্সাইড ব্যবহার করতে পারেন। অথবা হাইড্রোজেন পারক্সাইড, বেকিং সোডা, ভিনেগার ব্যবহার করা যেতে পারে। গরম পানিতে ডিটারজেন্ট মিশিয়ে তা দিয়ে ট্যাংক পরিষ্কার করলে আর বিষক্রিয়ার ভয় থাকে না।