শ্রীলংকায় ‘ল্যান্ড ব্যাংক’ চালু
ফাইল ছবি
পর্যটন খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণের নতুন অধ্যায়ে পা রাখল শ্রীলংকা। দেশের পর্যটন খাতকে চাঙা করতে ল্যান্ড ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এলবিএমআইএস) চালু করেছে দেশটির সরকার।
এ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ৩ হাজার একরেরও বেশি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জমি দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এক ছাতার নিচে জমির তথ্য, অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেতে পারবেন। একই সঙ্গে জমির মালিকরাও তাদের সম্পত্তি বিক্রি, ইজারা বা যৌথ প্রকল্পের জন্য তালিকাভুক্ত করতে পারবেন।
এটি শুধু জমির হিসাব নয়, বরং শ্রীলংকার অর্থনীতিকে গতি দিতে পর্যটন খাতের নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেওয়া এক সাহসী প্রচেষ্টা। সোমবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে শ্রীলংকার জাতীয় ব্যবসায়িক পত্রিকা ডেইলি এফটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার শ্রীলংকা ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট (এসএলটিডিএ) অথরিটি এ বড় উদ্যোগের ঘোষণা দেয়। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে সংগঠিত, টেকসই ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পর্যটন খাতে বিনিয়োগের পথ সহজ করা।
শ্রীলংকার পর্যটন উপমন্ত্রী প্রফেসর রুয়ান রনাসিংহে জানিয়েছেন, এ উদ্যোগে এমন জমিগুলোর একটি ‘ল্যান্ড ব্যাংক’ তৈরি করা হয়েছে, যেগুলো বিনিয়োগের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। বিনিয়োগের সুযোগ থাকবে স্টার-গ্রেড হোটেল, ইকো রিসোর্ট, ওয়েলনেস রিট্রিট, বুটিক হোটেল, অ্যাডভেঞ্চার লজ, কৃষি পর্যটন প্রকল্প এবং এমআইসিই (মিটিং, ইনসেনটিভ, কনফারেন্স, এক্সিবিশন) পর্যটনকেন্দ্র এবং সমন্বিত পর্যটন হাব তৈরিতে।
রানাসিংহে জানিয়েছেন, বেশির ভাগ জমি ৩৩ বছরের জন্য ইজারা ভিত্তিতে দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে জমি ফেরত নিয়ে তা অন্য আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের মধ্যে পুনরায় বরাদ্দ দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেছেন, টেকসই পর্যটন উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করাই আমাদের লক্ষ্য। তবে বিনিয়োগকারীদের প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে। শ্রীলংকা ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট অথরিটি চেয়ারম্যান বুদ্ধিকা হেওয়াওয়াসাম জানিয়েছেন, এ সপ্তাহেই প্রথম দফার টেন্ডার আহ্বান করা হচ্ছে।
সরকার চায় পরিবেশবান্ধব, টেকসই, জনকল্যাণমূলক ও বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর পর্যটন প্রকল্প। শ্রীলংকা ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট অথরিটি স্থায়ী পর্যালোচনা কমিটি গঠন করেছে। এ কমিটি নিয়মিতভাবে বিনিয়োগ প্রস্তাব মূল্যায়ন ও অনুমোদন দেবে। এটি এককালীন উদ্যোগ নয়, বরং একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যা সময়ের সঙ্গে আরও সম্প্রসারিত হবে। এদিকে চলতি বছরের প্রথমার্ধে শ্রীলংকা ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট অথরিটি ইতোমধ্যে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ৫৫ মিলিয়ন ডলারের তিনটি বিনিয়োগ নিশ্চিত করেছে। এছাড়া আরও ২ হাজার একর জমি বছরজুড়ে এ প্রকল্পে যুক্ত হবে। ফলে মোট জমির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৫ হাজার একরে।
নতুন ডিজিটাল ল্যান্ড ব্যাংকে এসএলটিডিএ মালিকানাধীন বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন অঞ্চলের জমি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে : ডেদ্দুওয়া লেক রিসোর্ট (১,৭১৩ একর), কালপিটিয়া দীপপুঞ্জ (১,৩৮৬), কুচ্চাভেলি বিচ রিসোর্ট জোন (৭৪ একর), রাসুল তোত্তামে (৪০ একর), আল্লাস গার্ডেন (৪ একর), বেনতোটা ন্যাশনাল হলিডে রিসোর্ট (২৪ একরের বেশি), পাসিকুডাহ (৬.৫ একর) এবং পিদুরাঙ্গালার ভুলানায়ায়া (১৯ একর)।