পাওনা টাকার চাপে কৃষকদল নেতার আত্মহত্যা
ছবি : প্রতীকি
কুমিল্লার চান্দিনায় মাহবুব আলম রুবেল (৪১) নামে এক কৃষকদল নেতার আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। স্বজনদের দাবি, আত্মহত্যা করা কৃষকদল নেতার মৃত বড় ভাইয়ের কাছে টাকা পেত বিএনপির এক স্থানীয় নেতা। টাকার জন্য তিনি আদালতে মামলা করেন। পাওনা টাকার চাপে ওই কৃষকদল নেতা বিষপানে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন। গত ২৮ জুন বিকেলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই কৃষকদল নেতা রুবেল মারা যান।
সোমবার (৩০ জুন) অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন চান্দিনা থানার ওসি জাবেদ উল ইসলাম।
জানা যায়, নিহত রুবেল উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের কামারখোলা গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তিনি ওই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড কৃষকদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। ওই কৃষকদল নেতা বিষপানের আগে তার মোবাইল ফোনে রেকর্ড করে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা গাজী হাসান মাহমুদ হানিফ একই ইউনিয়নের পানিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে নিহতের স্ত্রী রেহেনা বেগম বলেন, ২০০১ সালে ভাসুর (স্বামীর বড় ভাই) মফিজের সঙ্গে আমার স্বামী পৃথক হয়। ২০১৬ সালে মফিজ ভাইয়ের সঙ্গে হানিফ মাছের খাদ্য নিয়ে লেনদেন হয়। হানিফ পাওনা টাকার জন্য চাপ দিলে মফিজ ভাই বাড়ি ছেড়ে বরগুনার আত্মীয়ের বাড়িতে চলে যায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের তিনি সেখানে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরবর্তীতে হানিফ টাকা আদায় করতে আমার স্বামীকে আসামি করে আদালতে মামলা করে। গত ১৫ দিন যাবৎ হানিফ আমার স্বামীকে প্রবল চাপ সৃষ্টি করে এবং আরও একটি মামলা করার হুমকি দেয়। হানিফের ভয়ে আমার স্বামী বাড়ি থেকেও বের হতে পারছিল না। কয়েকদিন যাবৎ আমাদের ঘরে বাজার খরচও নেই। এ চাপ সহ্য করতে না পেরে আমার স্বামী আত্মহত্যা করেছেন। তিনি আত্মহত্যার আগে তার মোবাইল ফোনে হানিফের নির্যাতনের সব কথা রেকর্ড করে রেখে যান।
বিষপানের আগে কল রেকর্ডে রুবেলকে বলতে শোনা যায়, হানিফ আমার ভাইয়ের কাছে পাওনা টাকার জন্য আমাকে মামলা দেয়। গত কয়েকদিন যাবৎ হানিফ আমাকে ফোন করে এলাকার আওয়ামী লীগের লোকজনের নামে মামলা দিতে চাপ সৃষ্টি করে। না হয়, আমাকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যাবে। যেভাবেই হোক আমার কাছ থেকে টাকা আদায় করবে বলে হুমকি দেয়। বিষয়টি আমি চান্দিনা উপজেলা বিএনপি সভাপতিসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। ফরিদ হলো এসবের নাটের গুরু। এসব ঘটনায় আমি চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সবাই ভাল থাকবেন। পুলিশ যেন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে।
অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা হানিফ বলেন, মফিজ মারা যাওয়ার পর রুবেলসহ আরও ৩ জন আমার টাকা পরিশোধ করবে বলে কথা দেয়। তারা টাকা না দেওয়ায় আমি আদালতে মামলা করি।
এ সময় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দিতে চাপ সৃষ্টি করার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।
এ বিষয়ে চান্দিনা থানার ওসি জাবেদ উল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় কেউ আমাদের কোনো কিছুই জানায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।