চাঁনখারপুলে গণহত্যা: ৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ ১৪ জুলাই
সংগৃহীত ছবি
ঢাকা মেডিকেল কলেজ এলাকার চাঁনখারপুলে ছয়জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশের জন্য আগামী ১৪ জুলাই দিন ঠিক করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে পলাতক চার আসামির পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগের বিষয়টি আদালতে জানানো হয়।
আজ শুনানির সময় চার আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন—শাহবাগ থানার সাবেক ওসি (অপারেশন) মো. আরশেদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলাম।
শুনানিতে আসামিদের পক্ষ থেকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়। তবে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের জোর দাবি জানানো হয়।
শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে আইজিপির কমান্ডে ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেন। এরপর তার নির্দেশ বাস্তবায়নে অন্য আসামিরা সরাসরি মাঠে ছিলেন এবং হামলা চালান।
প্রসিকিউশনের দাবি, এ ঘটনায় সরাসরি নেতৃত্ব ও পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন আসামিরা। তাই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করাই যুক্তিযুক্ত।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকায় চলমান শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্যে গত ৫ আগস্ট চাঁনখারপুল এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালানো হয়। এতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদি হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া নিহত হন।
মামলায় তদন্ত সংস্থা ৯০ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে জমা দেয়। তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার সময় আসামিরা কেউ সরাসরি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন, কেউ বা নির্দেশনা দিয়েছেন এবং হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা করেছেন।
গত ২৫ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেয়। এরপর গত ২৯ জুন আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন করা হয়।
এ মামলায় পলাতক চার আসামি হলেন—সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, সহকারী কমিশনার (এসি) আনোয়ার হোসেন ও সহকারী কমিশনার মাহমুদুল হাসান।
পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে। তাদের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কুতুবউদ্দিন।
গত বছর জুলাই-আগস্ট মাসে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় ঢাকায় ছাত্র-জনতা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিল। ওই সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হামলায় চাঁনখারপুলে ছয়জন নিহত হন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযোগ উঠেছে, পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।
সব পক্ষের শুনানি শেষে অভিযোগ গঠনের আদেশের জন্য আগামী ১৪ জুলাই দিন ঠিক করেছেন ট্রাইব্যুনাল। ওইদিন আদালত সিদ্ধান্ত জানাবেন, মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হবে কি না।