১৫ ধরনের মানুষ যাদের দেখলেই শয়তান কাঁপে!

১৫ ধরনের মানুষ যাদের দেখলেই শয়তান কাঁপে!

ছবি: সংগৃহীত

শয়তান (ইবলিস) মানবজাতির প্রকাশ্য শত্রু হিসেবে কোরআন-হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। আদম (আ.)-এর সময় থেকে শুরু হওয়া তার শত্রুতা কেয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এ প্রসঙ্গে কোরআনে উল্লেখ করা হয়েছে- ‘নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের শত্রু, তাই তাকে শত্রু হিসেবেই গ্রহণ করো। সে তো তার দলবলকে আহ্বান করে যেন তারা জাহান্নামের অধিবাসী হয়।’ (সুরা ফাতির: ৬)

শয়তান কেন মানুষের শত্রু?

১. আল্লাহর আদেশ অমান্য ও অহংকার
শয়তান আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে আদম (আ.)-কে সেজদা করতে অস্বীকার করেছিল। আল্লাহ বলেন, ‘যখন আমি তোমাদের আদেশ করেছিলাম শয়তানকে সিজদা করো, তখন ইবলিস ছাড়া সবাই সিজদা করল। সে অস্বীকার করল এবং অহংকার করল। ফলে সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।’ (সুরা বাকারা: ৩৪)

২. মানুষের প্রতি ঈর্ষা ও বিদ্বেষ
শয়তান স্বীকার করেছে- ‘আমি তাকে (আদমকে) আপনার সেজদা করব না, আমি তার চেয়ে উত্তম। আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন, আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে।’ (সুরা সাদ: ৭৬)

এ থেকে বোঝা যায়, শয়তান মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিতে পারেনি।

শয়তান কাদেরকে সবচেয়ে বেশি শত্রু মনে করে?

ওহাব ইবনে মুনাব্বিহ (রহ.) থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনায় নবীজি (স.) শয়তানকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘তোমার সবচেয়ে বড় শত্রু কারা?’ শয়তান উত্তরে ১৫ শ্রেণির লোকের নাম উল্লেখ করে। 

  • নবী-রাসুলগণ (সবচেয়ে বড় শত্রু)
  • ন্যায়পরায়ণ শাসক
  • বিনয়ী ও দানশীল ধনী ব্যক্তি
  • সৎ ব্যবসায়ী
  • আল্লাহভীরু আলেম
  • পরোপকারী মুমিন
  • দয়ালু ও সহানুভূতিশীল মুমিন
  • সত্যিকার তাওবাকারী
  • হারাম থেকে সম্পূর্ণ বিরত ব্যক্তি
  • পবিত্রতা রক্ষাকারী মুমিন
  • অত্যধিক দান-খয়রাতকারী
  • সুন্দর চরিত্রের অধিকারী
  • পরোপকারী ব্যক্তি
  • নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াতকারী হাফেজ বা আলেম
  • রাতের শেষ প্রহরে তাহাজ্জুদ আদায়কারী (তাম্বিহুল গাফিলিন, পৃষ্ঠা ৪৭৯)

এই বর্ণনার সত্যতা কতটুকু?

এটি একটি ঐতিহাসিক বর্ণনা (আসার) এবং সরাসরি হাদিস নয়। ইমাম গাজজালি (রহ.) সহ অনেক আলেম এটিকে উপদেশমূলক কাহিনি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ ধরনের বর্ণনাগুলো শরয়ি দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়, তবে শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে।

শয়তান কার উপর ক্ষমতাহীন?

আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমার (আল্লাহর) বান্দাদের উপর তোমার (শয়তানের) কোনো ক্ষমতা নেই, কেবল তাদের ছাড়া যারা তোমাকে অনুসরণ করে এবং পথভ্রষ্ট হয়।’ (সুরা হিজর: ৪২)

শয়তান যাদেরকে ধোঁকা দিতে পারে না

  • মুত্তাকি (আল্লাহভীরু) বান্দা
  • ইখলাস (একনিষ্ঠতা) সহকারে আমলকারী
  • দৃঢ় ঈমানদার
  • সুরক্ষিত দোয়া ও যিকিরকারী

শয়তান থেকে বাঁচার উপায় 

  • আয়াতুল কুরসি পড়া (সুরা বাকারা: ২৫৫)
  • সুরা ফালাক ও নাস তেলাওয়াত
  • ইস্তিগফার ও তাওবা
  • সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন দোয়া পড়া

শয়তান মানুষের চিরশত্রু, কিন্তু মুমিন বান্দারা আল্লাহর হিফাজতে থাকলে তার ক্ষতি থেকে নিরাপদ। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে শয়তানের ধোঁকা থেকে রক্ষা করুন এবং ঈমান ও আমলের উপর অবিচল রাখুন। আমিন।