কাঁধ-পিঠে ব্যথা কেন হয়, কমানোর উপায় কী?

কাঁধ-পিঠে ব্যথা কেন হয়, কমানোর উপায় কী?

ছবি: সংগৃহীত

কাঁধ, গলার পেছনে কিংবা পিঠে ব্যথা হওয়া যেন এখন নিত্যদিনের অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যায়াম করলে এই ব্যথা কিছুটা কমে বটে কিন্তু পুরোপুরি সারে না। দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অনেক অভ্যাসই প্রভাব ফেলে জীবনে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে কাজ করা, মানসিক ও শারীরিক ধকল, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব ইত্যাদির জেরে বাড়ছে কাঁধ আর পিঠের ব্যথা। 

চিকিৎসকরা বলছেন, নিয়মিত কাঁধ ও পিঠের ব্যথা হালকাভাবে না নেওয়াই শ্রেয়। এটি শরীরের ভারসাম্যের ওপর বড় রকমের প্রভাব ফেলতে পারে। স্পাইনাল কর্ডে টান ধরলে পুরো শরীরের পশ্চারেই সমস্যা হতে পারে। ফলে ক্লান্তি, মাথা ব্যথা, মনসংযোগে ঘাটতি এবং ঘুমের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এই ব্যথার কারণে সহজ কাজও কঠিন মনে হতে পারে। 

কী কী কারণে পিঠের ব্যথা হয়? এর থেকে মুক্তির উপায়ই বা কী? চলুন জেনে নেওয়া যাক- 

অনিয়মিত ঘুম

শরীর যদি পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পায় তাহলে মাংসপেশীতে এর প্রভাব পড়ে। বিশ্রামের অভাবে শরীর সামলে উঠতে পারে না। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবও অনেকসময় পিঠ বা কাঁধ ব্যথার কারণ হয়। ভালো ঘুমের ঘাটতিতে মেরুদণ্ড দুর্বল হয়ে যায়। ফলে কাঁধ ও পিঠে বাড়তি চাপ পড়ে। অসহ্য যন্ত্রণা হয়। একসময় এই ব্যথা নিয়মিত হয়ে দাঁড়ায়। 

পুষ্টির অভাব

পেশী সুস্থ-সবল রাখতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, ম্যাগনেশিয়ামের মতো উপাদান খুবই জরুরি। এসবের ঘাটতিতে পেশিতে টান ধরে, ব্যথা হয়। অনিয়মিত খাওয়া-দাওয়া সমস্যা বাড়ায়। 

পিঠ-কাঁধ ব্যথা থেকে বাঁচার উপায় কী? 

দিনে অন্তত ৩০-৪০ মিনিট পর পর শরীরের অবস্থান পরিবর্তন করুন। দীর্ঘ সময় বসে কিংবা দাঁড়িয়ে অর্থাৎ একই পজিশনে না থাকাই শ্রেয়।

স্ট্রেস কমানোর জন্য মেডিটেশন, যোগাসন, ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ করতে পারেন। 

পিঠের ব্যথা থেকে বাঁচতে ভালো ঘুম জরুরি। অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করুন। 

ডায়েটে রাখুন এমন খাবার যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি থাকে।

ঘরোয়া টোটকায় সমাধান না মিললে অবশ্যই ফিজিওথেরাপিস্টের সাহায্য নিন। নয়তো সমস্যা ক্রমশ বাড়বে।