পদ্মা নদীতে বিরল প্রজাতির কুমির, আতঙ্কে এলাকাবাসী
সংগৃহীত ছবি
পাবনার সুজানগর উপজেলায় পদ্মা নদীতে বিরল প্রজাতির বিশাল আকৃতির একটি কুমির দেখা গেছে। এতে আতঙ্কে গত চার-পাঁচ দিন ধরে নদীতে নামছেন না স্থানীয় মৎসজীবী ও বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, উপজেলার চর মানিকদীর মাদারতলা এলাকায় সম্প্রতি কুমিরটিকে নদীতে ভাসতে দেখা যায়। এরপর থেকেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
উপজেলার চরভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা দবির উদ্দিন শেখ জানান, গত ৫ থেকে ৭ দিন হলো পদ্মা নদীর চরমানিকদীর মাদারতলা এলাকায় মাঝেমধ্যেই বিশাল আকৃতির একটি কুমির ভেসে উঠতে দেখা যাচ্ছে।
কই গ্রামের বাদশা শেখ জানান, নদীতে আরও কুমির থাকতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন।
সুজানগর পৌর এলাকার চর ভবানীপুর গ্রামের মৎস্যজীবী দবির উদ্দিন শেখ জানান, চর মানিকদীর মাদারতলা এলাকায় বিশাল আকৃতির কুমিরটিকে মাঝে মাঝেই পদ্মায় ভাসতে দেখা যাচ্ছে। ভয়ে স্থানীয় মৎস্যজীবীরা মাছ ধরতে যেতে পারছেন না।
চর সুজানগর এলাকার কৃষক আব্দুল আজিজ বলেন, গরু-ছাগল পদ্মার চরে ঘাস খায়, এখন স্থানীয় কৃষকরা চরে যেতেও ভয় পাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা নুর কাজমির জামান খান বলেন, পদ্মায় কুমির দেখা গেলেও কোনো কৃষক বা জেলের ক্ষতি হয়নি।
নদী অঞ্চলে চলাচলের সময় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন তিনি।
পাবনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী তরিকুর রহমান বলেন, মিঠা পানির কুমির প্রায় হারিয়েই গেছে। এখনও যেসব প্রজাতির মিঠা পানির কুমির রয়েছে, তার বেশির ভাগই রয়েছে পদ্মা নদীতে। সে কারণেই পদ্মায় মাঝে মাঝে কুমির দেখা যায়। আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। কুমির সাধারণত গভীর পানিতে থাকে। বর্ষাকালে পানি বৃদ্ধির ফলে কুমির নদীর উপরিভাগে চলে এলেও এরা স্থায়ীভাবে কোথাও থাকে না।