৭২-৭৫ সালের রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের দলিল প্রদর্শনী শুরু
সংগৃহীত
রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে শুরু হয়েছে ‘মুজিববাদ মুর্দাবাদ: ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের দলিল’ শিরোনামে প্রদর্শনী।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) শুরু হয়ে প্রদর্শনী শনিবার (৯ আগস্ট) পর্যন্ত চলবে। এই দুইদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য প্রদর্শনী উন্মুক্ত থাকবে। যৌথভাবে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে হিস্টোরিক্যাল ট্রান্সপারেন্সি সোসাইটি ও দ্যা বাংলাদেশ ন্যারেটিভ।
আয়োজকরা জানান, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ যে ভয়াবহ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দমন-পীড়নমূলক শাসনের অভিজ্ঞতা লাভ করেছ; তা তুলে ধরা হয়েছে প্রদর্শনীতে। ১৯৭২-১৯৭৫ সময়কালে মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী রাষ্ট্র পুনর্গঠনের আড়ালে চলতে থাকে বিচারবহির্ভূত হত্যা, রাজনৈতিক নিপীড়ন, সংবাদপত্র বন্ধ, বাকস্বাধীনতার দমন এবং রক্ষীবাহিনীর তাণ্ডব। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ এই সময়ের মানবিক বিপর্যয়ের অন্যতম ভয়াবহ নিদর্শন।
তারা আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই ‘কালো’ অধ্যায়ের বহু সত্য গোপন ছিল; আর একটি নির্দিষ্ট রাষ্ট্রীয় ন্যারেটিভ ইতিহাসকে করেছে একপেশে। নিষিদ্ধ ছিল প্রশ্ন তোলা, দমন করা হয়েছিল ভিন্নমত। এর কিছু অংশ তুলে ধরা হয় উক্ত প্রদর্শনীতে মোট ৮০টি ছবির মাধ্যমে। ছবি ছাড়াও ছিল অনলাইন আর্কাইভ থেকে প্রাপ্ত বিষয়বস্তু এবং ওই সময় অঙ্কিত প্রতিবাদী কার্টুন চিত্র।
হিস্টোরিক্যাল ট্রান্সপারেন্সি সোসাইটির প্রধান সম্পাদক ডা. সাফওয়ান রহমান ঢাকা মেইলকে বলেন, প্রদর্শনীতে ৭২-৭৫ সালের শাসনামলের দুর্নীতি, অপশাসন এবং দুর্ভিক্ষ তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আমরা এতদিন একপেশে ইতিহাস পড়ে আসছি এবং দেখে আসছি। আমরা চাই, সত্য ইতিহাসের চর্চাটা শুরু হোক।
তিনি আরও বলেন, আমরা ইতিহাসের বহুমাত্রিকতা তুলে ধরার চেষ্টা করছি। সেইসঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামল নিয়ে যেন গবেষণা হয়, সেই প্রত্যাশা করছি। তাহলে নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে, সেই সময়ে মানুষের বাকস্বাধীনতা কতটা হরণ করা হয়েছে।
ডা. সাফওয়ান রহমান বলেন, নতুন প্রজন্মের গবেষকদের জন্য আর্কাইভ উন্মুক্ত করে দেয়া উচিত। যাতে গবেষকরা সত্যটা তুলে আনতে পারেন এবং জনগণের সামনে যথার্থ ইতিহাস তুলে ধরতে পারেন।
প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন দ্য বাংলাদেশ ন্যারেটিভের অন্যতম সংগঠক প্রধান জুবায়ের ইবনে কামালসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আসা শিক্ষার্থীরা।