ইবিতে মানববন্ধন-সমাবেশ করতে অনুমতি লাগবে ছাত্র উপদেষ্টার; শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
ফাইল ছবি
ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ছাত্র উপদেষ্টা অফিসের তালিকাভুক্ত সংগঠনগুলোর নামে ক্যাম্পাসে কোনো প্রকার সভা, সমাবেশ, মানববন্ধন বা অন্য যেকোনো কর্মসূচি পালন করতে অনুমতি নিতে হবে। এছাড়া যে-সকল সংগঠন ছাত্র উপদেষ্টা অফিসে তালিকাভুক্ত নয় তাদের এসকল কর্মসূচি না করার অনুরোধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সোমবার (০৮ আগস্ট) ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানোর পর থেকে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছে শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা বর্তমান প্রশাসনের সংস্কার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, "ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত ছাত্র-ছাত্রীদেরকে জানানো যাচ্ছে যে, ছাত্র-উপদেষ্টা অফিসে তালিকাভুক্ত সংগঠন/সমিতি/ক্লাব ব্যতীত অন্য কোনো সংগঠন বা সমিতির নামে ক্যাম্পাসে কোনো প্রকার সভা, সমাবেশ, মানববন্ধন বা অন্য কোনো কর্মসূচি পালন না করতে পরামর্শ দেয়া যাচ্ছে। উল্লেখ্য যে, তালিকাভুক্ত হতে চাইলে উক্ত সংগঠনের উপদেষ্টা পরিষদের তালিকা, গঠনতন্ত্র ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি (উপদেষ্টা পরিষদের স্বাক্ষরসহ) ছাত্র-উপদেষ্টা অফিসে জমা দিতে হবে।"
এ বিষয়ে সাদ্দাম হোসেন হল ডিবেটিং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রাহাত আব্দুল্লাহ তার এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, কতটা দেউলিয়াত্ব মনোভাব লালন করলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এমন নোটিশ দেয়? বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সকল শিক্ষার্থী কোনো সংগঠন, সমিতি কিংবা ক্লাব করে না, তারা কী কোনো যৌক্তিক দাবির জন্য মানববন্ধন করতে পারবে না? বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পছন্দের সুরে কথা না বললে, এভাবে বাঁধা দিবে? সহস্র শহিদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন গত এক বছরে ফাঁকা বুলি ছাড়া, কার্যত দৃশ্যমান সংস্কার করতে অনেকাংশে ব্যর্থ। এই নোটিশ যদি আমাদের দমানোর জন্য হয়ে থাকে, তাহলে তাঁরা নিজেদের বিপদই ডেকে আনবে। এই দাবি কোনো একক শিক্ষার্থী না। এই দাবি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর। আমরা আমাদের এই যৌক্তিক দাবি আদায়ে শরী|রের শেষ র|রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও লড়াই করবো। এই প্রহসনের নোটিশ প্রত্যাখান করলাম।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইবি শাখার সাবেক সহ-সমন্বয়ক গোলাম রাব্বানী বলেন, "আন্দোলন কেউ কখনো রেজিষ্ট্রেশন নম্বর দেখায় করে না।আন্দোলন প্রয়োজনে শুরু হয় এবং প্রয়োজনেই করে শিক্ষার্থীরা। সত্যি সত্যি যদি আপনাদের মুরোদ থাকে তাহলে প্রয়োজনগুলো আমলে নিন এবং সমাধান করেন। অন্যথায় এসব অপ্রত্যাশিত কাজ আপনাদের গুড বাই জানাবে।"
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মাহমুদুল হাসান তার এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, "প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়কে সামরিক ক্যাম্প বানাতে চাইছে নাকি? ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে নতুন এক "মহামূল্যবান" বিজ্ঞপ্তি এসেছে। যেখানে বলা হয়েছে –তালিকাভুক্ত সংগঠন ছাড়া অন্য কেউ সমাবেশ করবে না, সভা করবে না, মানববন্ধন করবে না। মানে কি? এবার কি চায়ের দোকানে গল্প করতে গেলেও অনুমতি নিতে হবে? প্রশাসনকে মনে করিয়ে দিই বিশ্ববিদ্যালয় কোনো সেনানিবাস নয় –এখানে চিন্তা, মত প্রকাশ ও সংগঠন করার অধিকার আমাদের জন্মগত অধিকার। যতই কাগজে ফতোয়া লিখেন, শিক্ষার্থীর কণ্ঠ বন্ধ করতে পারবেন না। যদি মনে করেন শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ দমিয়ে ক্যাম্পাস চালাবেন, তবে ভুলে গেছেন ইতিহাস! ইউনিভার্সিটি আন্দোলনেই স্বৈরাচার কেঁপেছে, আর এই আন্দোলন প্রশাসনের লিস্ট করা সংগঠন এর মধ্যে থেকে হয়নি। স্পষ্ট করে জানিয়ে দিচ্ছি -এই অগণতান্ত্রিক বিজ্ঞপ্তি অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। নইলে ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ এমন হবে যে, এই বিজ্ঞপ্তি লেখা অফিসেই লালকার্ড ঝুলবে।”