নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সঙ্ঘর্ষে ভারতের শীর্ষ মাওবাদী নেতা নিহত
নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সঙ্ঘর্ষে ভারতের শীর্ষ মাওবাদী নেতা নিহত। ছবিঃ সংগৃহীত
ভারতের শীর্ষ মাওবাদী নেতা সহদেব সোরেন নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সঙ্ঘর্ষে নিহত হয়েছে। নয়াদিল্লি তার মাথার দাম এক কোটি টাকা ঘোষণা করেছিল। সোমবার ভোরে ঝাড়খণ্ডে নিরাপত্তা বাহিনীর এক যৌথ অভিযানে তিনি নিহত হন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত সহদেব সোরেন ছিলেন ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির (মাওবাদী) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং পূর্ব ভারতে মাওবাদী আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ কমান্ডার। তার সাথে আরো দুই সিনিয়র মাওবাদী নেতা এই সঙ্ঘর্ষে প্রাণ হারান। রঘুনাথ হেমব্রম ওরফে চঞ্চল বিহার-ঝাড়খণ্ড স্পেশাল এরিয়া কমিটির সদস্য, যার মাথার উপর ২৫ লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা ছিল। বীরসেন গঞ্জু ওরফে রামখেলাওয়ান মাওবাদী দলের জোনাল কমিটির নেতা, যার মাথার উপর ১০ লাখ টাকার পুরস্কার ছিল।
কিভাবে অভিযান চালানো হয় ওই বিষয়ে জানিয়েছে পুলিশ। ঝাড়খণ্ড পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোপন সূত্রে খবরের ভিত্তিতে এই অভিযান শুরু হয়। কোবরা ব্যাটালিয়ন, গিরিডিহ পুলিশ ও হাজারিবাগ পুলিশ যৌথভাবে সোমবার ভোর প্রায় ৬টার সময় অভিযান চালায়। করান্ডি গ্রামে, গিরিডিহ-বোকারো সীমান্তবর্তী জঙ্গলে মাওবাদীদের অবস্থান টের পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযানে নামে। আচমকা শুরু হয় তীব্র গোলাগুলি। কয়েক ঘণ্টার সঙ্ঘর্ষের পর ঘটনাস্থল থেকে তিন মাওবাদী নেতার লাশ উদ্ধার করে নিরাপত্তা বাহিনী। পাশাপাশি তাদের ব্যবহৃত কিছু অস্ত্রশস্ত্রও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
ঝাড়খণ্ড পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, নিহত তিনজনই দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে মাওবাদী কার্যকলাপের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। তাদের মৃত্যুতে মাওবাদী সংগঠন বড় ধাক্কা খেল। তিনি বলেন, ‘এই অভিযান নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য একটি বড় সাফল্য। মাওবাদী আন্দোলনের কাঠামো দুর্বল করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।’ তবে এলাকায় আরো কিছু মাওবাদী সদস্য লুকিয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে পুরো জঙ্গলে বর্তমানে তল্লাশি অভিযান চলছে। অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং ড্রোনের সাহায্যেও নজরদারি চালানো হচ্ছে।
অভিযানে সহদেব সোরেনের মতো শীর্ষ মাওবাদী নেতার মৃত্যুকে নিরাপত্তা মহল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছে। পূর্ব ভারতের মাওবাদী কার্যকলাপের উপর এর প্রভাব পড়বে বলেই মনে করছে পুলিশ। এদিকে গোটা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, যাতে মাওবাদী গোষ্ঠী পাল্টা হামলার চেষ্টা না করতে পারে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঝাড়খণ্ড ও সংলগ্ন রাজ্যগুলোতে মাওবাদী কার্যকলাপ ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে। বড়সড় পুরস্কার ঘোষিত নেতাদের একের পর এক মৃত্যুই প্রমাণ করছে, গোয়েন্দা তথ্য ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের ঘাঁটি ভাঙতে সক্ষম হচ্ছে। যদিও মাওবাদীরা এখনো কিছু এলাকায় সক্রিয় এবং স্থানীয় গ্রামবাসীদের ভয় দেখিয়ে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে। তবে নেতৃত্ব হারানোয় তাদের শক্তি অনেকটাই ক্ষয়প্রাপ্ত হবে। পুলিশের মতে, এই সাফল্যের পর মাওবাদী দমনে ভবিষ্যৎ কৌশল আরো আক্রমণাত্মক হবে।