অপব্যবহার করলে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা আবার হারাতে হতে পারে: এম আবদুল্লাহ

অপব্যবহার করলে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা আবার হারাতে হতে পারে: এম আবদুল্লাহ

ছবি: সংগৃহীত

যশোর প্রতিনিধি :: বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এম আবদুল্লাহ বলেছেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বলে কিছু ছিল না। ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পর সাংবাদিকরা অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করছেন। কিন্তু অবাধ স্বাধীনতার নামে মনগড়া ও ভিত্তিহীন খবর প্রকাশ করা যাবে না।

সম্প্রতি মূলধারার সংবাদমাধ্যমে ভুয়া সংবাদ প্রকাশের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের অবশ্যই বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করতে হবে। তা না হলে আরও বড় খেসারত দিতে হতে পারে। অপব্যবহার করলে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা আবার হারাতে হতে পারে।

সোমবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে যশোরের জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষ ‘অমিত্রাক্ষরে’ আয়োজিত খুলনা বিভাগের পাঁচ জেলার সাংবাদিকদের মাঝে কল্যাণ ট্রাস্টের অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। 

সম্প্রতি কক্সবাজারে সাবেক একজন রাষ্ট্রের দূতের অনুপস্থিতিতে একটি বৈঠকের সংবাদের উল্লেখ করে মুহম্মাদ আব্দুল্লাহ বলেন, 'তিনি এদেশেই ছিলেন না, অথচ আমরা লিখে দিলাম  সেখানে বৈঠক করেছেন। দেশের অনেক দায়িত্বশীল মিডিয়া সেখানকার তথাকথিত ওই বৈঠকের সংবাদ প্রকাশ করে। সাংবাদিকদের লেখার যেমন স্বাধীনতা থাকবে, পাশাপাশি দায়িত্বশীলতার জায়গা রাখতে হবে।'
'বিগত ১৫ বছর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের কালাকানুন বাতিলের দাবিতে রাজপথে আমরা কী ধরনের আন্দোলন সংগ্রাম করেছি, নিশ্চয়ই সকলের তা স্মরণে আছে,' উল্লেখ করেন তিনি।

সাংবাদিকদের মতদ্বৈততার কথা উল্লেখ করে বিএফইউজের সাবেক সভাপতি মুহম্মাদ আবদুল্লাহ বলেন, 'আমরা নিজেরাই এখন বিভাজন সৃষ্টি করছি। কে বিএনপিপন্থী, কে জামায়াতপন্থী- এগুলো উত্থাপনের মাধ্যমে সেই বিভাজনের দেয়াল তৈরি করা হচ্ছে। একে অপরকে ঘায়েল করার চেষ্টা হচ্ছে। এই আত্মঘাতী অবস্থা থেকে বের হতে না পারলে ৫ আগস্টের আগের চেয়েও আমরা আরো ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হবো।'

সাংবাদিকদের জন্যে শুধু অনুদান প্রদানই নয় উল্লেখ করে কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ বলেন, 'সাংবাদিকদের সন্তানদের লেখাপড়া সচল রাখতে তাদের জন্যে শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। শেষবয়সে যেন সাংবাদিকরা তাদের চিকিৎসার জন্যে খরচ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে চিকিৎসাভাতার ব্যবস্থা করারও চেষ্টা করবো। সাংবাদিকদের পেনশনের জন্যে আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, তাদের জন্যে ঝুঁকিভাতার বিষয়টিও আমাদের চিন্তায় রয়েছে।'

দেশ, দেশের গণতন্ত্র ও আমাদের মূল্যবোধ- এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে পরস্পরের প্রতি কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'আমরা সবাই বাংলাদেশের পক্ষে। দেশ গড়তে আসুন  সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি।'

যশোরের জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উপ-পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) এবিএম রফিকুল ইসলাম, সিনিয়র তথ্য অফিসার মো. রেজাউল করিম, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, দৈনিক লোকসমাজের প্রকাশক শান্তনু ইসলাম সুমিত, বিএফইউজে নেতা রাশিদুল ইসলাম, প্রেসক্লাব যশোরের সাবেক সম্পাদক আহসান কবীর, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সাবেক সভাপতি নূর ইসলাম, বর্তমান সভাপতি আকরামুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, নড়াইল ও মাগুরার ৪৫ জন সাংবাদিককে ২৫ লাখ টাকা অনুদানের চেক প্রদান করা হয়।