সুপার ফোরের আশা বাঁচিয়ে রাখলেন লিটনরা
সংগ্রহীত ছবি
ক্রীড়া প্রতিবেদক : বাঁচা-মরার লড়াই, অর্থাৎ এশিয়া কাপে সুপার ফোর পর্বে যাওয়ার আশা টিকিয়ে রাখতে জিততেই হতো বাংলাদেশকে। গতকাল মঙ্গলবার আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে এমন সমীকরণ ঠিকঠাকই মেলাতে পেরেছেন লিটন দাসরা। ৮ রানের জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলের ২ নম্বরে উঠে এসেছেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এতে পরের পর্বে দরজা খোলা থাকল বাংলাদেশের সামনে।
আগামীকাল একই গ্রুপের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা-আফগানিস্তান। এই ম্যাচে লঙ্কানরা জয় পেলে রানার্স আপ হয়ে সুপার ফোরে যাবেন লিটনরা। রশিদ খানরা জয় পেলেও সুযোগ থাকবে। সে ক্ষেত্রে হিসাব হবে রান রেটের।
জয়ের পর বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস বলেন, ‘ম্যাচ জেতা অবশ্যই স্বস্তির। তবে শেষ ৪-৫ ওভারে আমরা ভালো ব্যাটিং করতে পারিনি। আমার মনে হয়েছে, আমরা ১৫ থেকে ২০ রান কম করেছি।’
গতকাল ম্যাচ শুরুর আগে লঙ্কান ধারাভাষ্যকার রাসেল আর্নল্ড জানান, উইকেটে স্পিনাররা সহায়তা পাবেন।
১৬৫ রান হবে জয়ের জন্য যথেষ্ট। পাওয়ার প্লেতে ভালো শুরুর পর ম্যাচ ওপেনার তানজিদ হাসানের ফিফটিতে (৫২) প্রথম ১০ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৮৭ রান তুলে ফেলে বাংলাদেশ। তবে পরের ব্যাটাররা ছন্দ ধরে রাখতে পারেননি। শেষ ৫ ওভারে ৩৫ রান তোলা লিটনদের ইনিংস থামে ১৫৪ রানে। এই রান টপকাতে হলে অবশ্য রেকর্ড গড়তে হতো আফগানিস্তানকে।
এর আগে টেস্ট খেলুড়ে কোনো দলের বিরুদ্ধে ১৫০ রানের বেশি তাড়া করতে পারেনি তারা। এবারও এই রেকর্ড অধরা রয়ে গেল রশিদদের।
বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ, লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন এবং বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে আফগানদের ইনিংস থামে ১৪৬ রানে। বোলারদের প্রশংসায় ভাসিয়ে লিটন বলেন, ‘নাসুম আর রিশাদ যেভাবে বোলিং করেছে, সেটা ছিল অসাধারণ। ওরা সত্যিই নিজেদের দক্ষতা দেখিয়েছে।’ এবারের এশিয়া কাপে প্রথমবার সুযোগ পেয়ে ৪ ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে ২ উইকেট নেওয়া নাসুম ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন। পুরস্কার হাতে নিয়ে বলেন, ‘আমি সব সময় নতুন বলে বোলিং করতে পছন্দ করি। আজ (গতকাল) অধিনায়ক সেটাই আমাকে করতে বলেছেন। এই চ্যালেঞ্জটা আমি খুব উপভোগ করি। যদিও প্রচণ্ড শিশির আর ঘাম হচ্ছিল, তাই বল গ্রিপ করতে সমস্যা হচ্ছিল। কিন্তু আমি এমন চ্যালেঞ্জ সব সময় উপভোগ করি।’
বাংলাদেশের বিপক্ষে হেরে আফগান অধিনায়ক রশিদ বললেন, ‘দুঃখজনকভাবে আমরা নিজেদের আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে পারিনি। নিজেরাই নিজেদের ওপর অনেক চাপ তৈরি করেছি। ব্যাটাররা দায়িত্বজ্ঞানহীন শট খেলেছে।’ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে জয় পাওয়ার ব্যাপারে আশার কথাও শোনালেন তিনি, ‘শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আমাদের ভালোভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে, এটা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।’