নামাজের আগে মিসওয়াকের ফজিলত

নামাজের আগে মিসওয়াকের ফজিলত

ছবি: সংগৃহীত

ইসলামে পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব অপরিসীম। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারী ও নিজেকে পবিত্র রাখে—এমন লোকদের ভালোবাসেন।’ (সুরা বাকারা: ২২২) নামাজের মতো মহান ইবাদতের প্রস্তুতিতে বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ উভয় পবিত্রতার গুরুত্ব রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে দাঁত ও মুখ পরিষ্কার রাখার বিষয়টি ইসলামে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।

এই পরিচ্ছন্নতার একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ও সুন্নত মাধ্যম হলো মিসওয়াক। এটি রাসুলুল্লাহ (স.)-এর অত্যন্ত প্রিয় একটি আমল, যা তিনি বিভিন্ন সময় বিশেষ করে নামাজের পূর্বে নিয়মিতভাবে করতেন এবং সাহাবিদেরও উৎসাহিত করতেন। এই লেখায় আমরা জানব মিসওয়াকের গুরুত্ব, হাদিসে বর্ণিত ফজিলত, নামাজের আগে এর ব্যবহার, এবং ইসলামি সুন্নতি পদ্ধতিতে এর সঠিক প্রয়োগ।

হাদিসে মিসওয়াকের গুরুত্ব
মিসওয়াক রাসুলুল্লাহ (স.)-এর একটি প্রিয় সুন্নত। এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও ইবাদতের সওয়াব বৃদ্ধির একটি কার্যকর মাধ্যম। রাসুল (স.) বলেছেন, ‘জিবরাইল (আ.) আমার কাছে এতবার মিসওয়াকের গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন যে, আমি আশঙ্কা করেছিলাম এটিকে ফরজ করে দেওয়া হবে।’ (মুসনাদে আহমদ: ২২২৬৯)

নামাজের আগে মিসওয়াক
উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, ‘নবী (স.) যখন রাতে তাহাজ্জুদ পড়ার জন্য উঠতেন, প্রথমে মিসওয়াক করতেন।’ (সহিহ বুখারি ও মুসলিম) নবীজি (স.) বলেছেন, ‘যদি আমি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর হওয়ার আশঙ্কা না করতাম, তাহলে তাদের প্রতি নামাজের সময় মিসওয়াক করা ফরজ করে দিতাম।’ (সহিহ বুখারি: ৮৮৭)

অন্য হাদিসে এসেছে, ‘মিসওয়াক করে নামাজ পড়া, মিসওয়াক ছাড়া নামাজ পড়ার তুলনায় সত্তর গুণ বেশি সওয়াবের কারণ হয়।’ (মুসনাদে আহমদ: ২৬৩৪০)

মিসওয়াক ব্যবহারের সুন্নত পদ্ধতি
মিসওয়াক ডান হাতে ধরা।
ডান দিক থেকে শুরু করে দাঁতের প্রস্থ বরাবর এবং জিহ্বায় লম্বালম্বিভাবে মিসওয়াক করা।
মিসওয়াক এক বিঘত (প্রায় ৬ ইঞ্চি) লম্বা এবং আঙুলের মতো মোটা হওয়া মোস্তাহাব।
অতএব, মিসওয়াক রাসুল (স.)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি মাধ্যম। আধুনিক বিজ্ঞানও এর উপকারিতাগুলো নিশ্চিত করেছে। তাই মুসলিম হিসেবে আমাদের কর্তব্য- এই মহান সুন্নতকে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ধারণ করা, বিশেষ করে নামাজের আগে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে মিসওয়াকের মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন ও সুন্নতের পুনর্জীবন দানের তাওফিক দান করুন। আমিন।