কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর ভাত, না কি রুটি?

কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর  ভাত, না কি রুটি?

সংগ্রহীত ছবি

ভাত ও রুটি দুইটি খাবারই আমাদের দৈনন্দিন খাবারের অংশ হলেও, কোনটি শরীরের জন্য বেশি উপকারী, তা নির্ভর করে একাধিক বিষয়ের ওপর। যেমন ব্যক্তির বয়স, দৈহিক পরিশ্রম, স্বাস্থ্য সমস্যা ও খাদ্যাভ্যাস। কেউ মনে করেন রুটি খাওয়া ওজন কমায়, আবার অনেকে ভাতকে শক্তির প্রধান উৎস হিসেবে বেছে নেন। তাই, বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী, শুধু ভাত বা রুটিকে আলাদা করে বিচার না করে, বরং কোন পরিস্থিতিতে কোনটি উপযুক্ত তা জানা জরুরি।

কোন ক্ষেত্রে রুটি ভালো:
আঁশ (ফাইবার) বেশি থাকলে: মোটা আটা বা ফাইবারযুক্ত রুটি হলে রুটি আপনাকে বেশি তৃপ্তি দিতে পারে, কারণ এটি ধীরে হজম হয় ও রক্তে শর্করার মাত্রাকে দ্রুত বাড়াতে দেয় না।
রক্তে শর্করার সমস্যায়: ডায়াবেটিস বা প্রি‑ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে, সাধারণ রুটির মতো ফাইবার‑কম হতে পারে, কিন্তু ভালো ধরনের রুটি যেমন পুরো আটা বা ফাইবারযুক্ত অনেক সময় ভালো বিকল্প হতে পারে।
হালকা শরীরিক কাজ বা কম ক্যালরি প্রয়োজন হলে: যদি বেশি পরিশ্রম না করেন, তাহলে রুটি কম খেলে ওজন বাড়ার সম্ভাবনা কম।

কোন ক্ষেত্রে ভাত ভালো:
শক্তি বেশি প্রয়োজন হলে: প্রয়োজনে যে সমস্ত সময় দায়িত্ব বেশি বা কাজ বেশি হয়, তখন ভাত দ্রুত শক্তি দেওয়া সক্ষম।


শরীরের প্রচুর পরিশ্রমে: কৃষিকাজ, নির্মাণ কাজ, হাঁটা‑চলা বেশি এমন কাজ করলে প্রচুর কার্বোহাইড্রেট দরকার, তখন ভাত ভালো হতে পারে।
অন্যান্য উপাদান ভালোভাবে মেশানো হলে: ভাতের সঙ্গে যদি ডাল, সবজি, দই, মাছ বা মাংস যুক্ত করা হয়, তাহলে খাবার সম্পূর্ণ হবে এবং ভাত নিজেও স্বাস্থ্যকর হবে।

সাধারণ সতর্কতা:
১। চিকন আটা বা অতিমিহি রুটি: যদি রুটিতে মোটা আটা না থাকে, তাহলে রুটিও ভাতের মতোই দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়াবে।

২। পালিশ করা সাদা ধান/চাল: সে ক্ষেত্রে ভাত কম পুষ্টিকর হয়, ফাইবার কম হয়। যা স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ প্রভাব থাকতে পারে।

৩। অতিরিক্ত খাওয়া: ভাত বা রুটি যেকোনটি অতিরিক্ত খেলে ওজন বাড়তে পারে।

বৈজ্ঞানিক তথ্য
ব্রাউন রাইস ফাইবার ও পুষ্টিকর উপাদানে সমৃদ্ধ। যা হৃদরোগ, টাইপ‑২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। সাদা ভাত বা সাদা আটা (ময়দা) সাধারণভাবে রিফাইন্ড শস্য হিসেবে বিবেচিত, যেখানে আঁশ ও ভিটামিন‑মিনারেল অনেকটাই কম থাকে। রুটির ক্ষেত্রে যদি পুরো আটা ব্যবহার করা হয়, তাহলে এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স তুলনামূলকভাবে কম হয়, যা রক্তে চিনি দ্রুত বাড়তে দেয় না। 

আপনার কাজ, শারীরিক ক্রিয়ার পরিমাণ, স্বাস্থ্যের অবস্থা এবং খাবারের সাথে কি যুক্ত করা হয়; এসব বিবেচনায় রাখলে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো।