ধমনীতে ব্লক হলে আগেই যে সংকেত দেয় শরীর

ধমনীতে ব্লক হলে আগেই যে সংকেত দেয় শরীর

সংগৃহীত

বর্তমান ব্যস্ত জীবনে মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব বাড়ছে। ফলে নীরবে বাসা বাঁধছে বিভিন্ন রোগ। এদের মধ্যে অন্যতম একটি হলো করোনারি আর্টারি ডিজিজ। এটি হৃৎপিণ্ডের রক্তবাহী নালীর ভেতরে চর্বি জমার কারণে হয়। শরীর একেবারে শেষ মুহূর্তে এই রোগের লক্ষণ প্রকাশ করে না, বরং অনেক আগে থেকেই ছোট ছোট সংকেত দিতে থাকে। এই সংকেতগুলো চিনতে পারলে অনেক জীবন বাঁচানো সম্ভব।

বুকের যন্ত্রণা (অ্যাঞ্জাইনা): এটি হৃদরোগের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ। বুকে দম বন্ধ করা চাপ, ভারী লাগা বা ব্যথা অনুভব করা, যা প্রায়শই বুক থেকে বাম কাঁধ, ঘাড় বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত শারীরিক পরিশ্রম যেমন—দ্রুত হাঁটা বা সিঁড়ি ভাঙার সময় এই ব্যথা শুরু হয় এবং বিশ্রাম নিলে কমে আসে।

শ্বাসকষ্ট: আগে যে সিঁড়ি অবলীলায় ভাঙা যেত, এখন তা ভাঙতে গেলে হাঁপিয়ে ওঠা বা সামান্য পরিশ্রমে দম ফুরিয়ে আসা এই রোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। হৃৎপিণ্ড দুর্বল হয়ে গেলে রক্ত পাম্প করার ক্ষমতা কমে যায়, যার ফলে ফুসফুসে চাপ পড়ে এবং শ্বাসকষ্ট হয়।

অতিরিক্ত ক্লান্তি: সারাদিনের কাজের পর ক্লান্তি আসা স্বাভাবিক হলেও যদি সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরও শরীরজুড়ে তীব্র অবসাদ থাকে, তবে তা চিন্তার বিষয়। এটি বোঝায় যে, হৃৎপিণ্ডকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হচ্ছে।

ছদ্মবেশী লক্ষণ: বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগী ও নারীদের ক্ষেত্রে বুকে ব্যথার মতো চিরাচরিত লক্ষণ দেখা যায় না। এর বদলে বুকজ্বালা, হজমের গোলমাল, বমি ভাব, মাথা ঘোরা বা ঠাণ্ডা ঘাম হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে সেগুলোকে এড়িয়ে না গিয়ে দ্রুত একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো সচেতনতা বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে।