হায়েজ অবস্থায় তালাক পতিত হয় কি?
ছবি: সংগৃহীত
ইসলামি শরিয়তে তালাক একটি বৈধ কিন্তু অত্যন্ত অপছন্দনীয় বিষয়। তালাক প্রদানের জন্য শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত কিছু শর্ত ও আদব রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো- স্ত্রীকে সেই সময়ে তালাক না দেয়া যখন সে হায়েজ বা ঋতুবতী অবস্থায় থাকে। এই নিবন্ধে হায়েজ অবস্থায় তালাক প্রদানের বিধান ও তার ফলাফল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
হায়েজ অবস্থায় তালাকের বিধান
হানাফি মাজহাবসহ অধিকাংশ স্কলারের মতে, হায়েজ অবস্থায় প্রদত্ত তালাক প্রতিপন্ন হয় (অর্থাৎ তা শরিয়তসম্মতভাবে কার্যকর হয়)। তবে এটি একটি গুনাহের কাজ এবং শরিয়তের দৃষ্টিতে ‘বেদঈ তালাক’ হিসেবে গণ্য। অর্থাৎ এই তালাক কার্যকর হবে, কিন্তু এর জন্য সে আল্লাহর কাছে অপরাধী হবে। তাই এটি অত্যন্ত গর্হিত কাজ।
হজরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর স্ত্রীকে হায়েজ অবস্থায় তালাক দিলেন। ইবনে ওমর (রা.) বিষয়টি নবী (স.)-এর কাছে ব্যক্ত করলেন। তখন তিনি বললেন- ‘সে যেন তাকে ফিরিয়ে আনে।’ রাবি ইবন সিরিন বলেন, আমি বললাম, ‘তালাকটি কি গণ্য করা হবে?’ তিনি (ইবনে ওমর) বললেন, ‘তাহলে কী?’ (সহিহ বুখারি: ৫২৫২)
এই হাদিসটি প্রমাণ করে যে, হায়েজ অবস্থায় দেয়া তালাক কার্যকর হয়, কিন্তু এটি একটি রজঈ (প্রত্যাহারযোগ্য) তালাক ছিল বলে রাসুল (স.) তা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। যদি এটি তিন তালাক হতো, তবে প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ থাকত না।
ফিকহি উদ্ধৃতি
‘যদি কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে হায়েজ অবস্থায় তালাক দেয়, তাহলে তালাকটি কার্যকর হবে।’ (হেদায়া: ২/৩৫৭) ‘বেদঈ তালাক সময়ের দিক থেকে হলো- যে স্বামী তার স্ত্রীকে হায়েজ অবস্থায় অথবা পবিত্র অবস্থায় সহবাসের পর তালাক দেয়। আর এই তালাকও কার্যকর হয়।’ (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/৩৪৯)
তালাকের আদর্শ পদ্ধতি
তালাক দেওয়ার আদর্শ পদ্ধতি হলো, স্ত্রী যখন হায়েজ থেকে পবিত্র হয়, তখন নতুন করে যৌনমিলন হওয়ার আগেই স্পষ্ট শব্দে শুধু এক তালাক দেওয়া। দ্বিতীয় বা তৃতীয় তালাক না দেওয়া। এতে স্ত্রীর ইদ্দতকাল (তিন মাসিকের ভেতর) পর্যন্ত স্বামীর জন্য ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু তিন তালাক দিয়ে দিলে হালালা ছাড়া পুনরায় বিয়ে করা সম্ভব নয়।
মোটকথা, হায়েজ অবস্থায় তালাক দেওয়া শরিয়তসম্মত হলেও এটি একটি গুনাহের কাজ এবং শরিয়তের দৃষ্টিতে বেদঈ (নিন্দনীয়) পদ্ধতি। তাই মুসলিমদের উচিত এভাবে তালাক প্রদান থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকা। তালাকের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শরিয়তের সমস্ত নিয়ম-কানুন মেনে চলা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অত্যাবশ্যক।