জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধের দাবি মঞ্চ ২৪-এর

জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধের দাবি মঞ্চ ২৪-এর

সংগৃহীত

জাতীয় পার্টিকে আওয়ামী লীগের সহযোগী দল উল্লেখ করে তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে মঞ্চ ২৪।

শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শাহবাগ যাদুঘর এলাকায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ দাবি জানান সংগঠনের আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে জাতীয় পার্টি ও ১৪ দল গণতন্ত্র হত্যার মূল খেলোয়াড় হিসেবে কাজ করেছে। জনগণের ভোটাধিকার হরণ, ভিন্নমত দমন এবং বিদেশি আধিপত্যকে প্রশ্রয় দেওয়া ছাড়া এদের কোনো ভূমিকা নেই।

ফাহিম ফারুকী বলেন, জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে জাতীয় পার্টি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চেষ্টা করেছে। ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ শতাধিক জুলাই নেতার ওপর সন্ত্রাসী আক্রমণে জাতীয় পার্টির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এজন্য সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় অবিলম্বে জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানানো হয়।

মঞ্চ ২৪ সংগঠনের আহ্বায়ক অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের মতোই জাতীয় পার্টি দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য অভিশাপ। এই দল বারবার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার পরিবারকে অপমান করেছে, বেগম খালেদা জিয়ার মামলায় সরকারের অবস্থানকে সমর্থন করেছে এবং আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের দমননীতিকে বৈধতা দিয়েছে। জুলাই মাসে হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে সরাসরি জাতীয় পার্টি ও ১৪ দল জড়িত। আওয়ামী লীগ প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর গুলি চালানোর পরিকল্পনাও করেছে তারা। অথচ জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য তাদের সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা এবং শহীদদের আত্মত্যাগের অপমান বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

মঞ্চ ২৪ মনে করে, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের রাজনীতি দেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। অবিলম্বে এদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করে বিচারের মুখোমুখি করা না হলে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষা করা সম্ভব হবে না। জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক স্থগিত করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ বন্ধ করারও দাবি জানানো হয়। সংগঠনটি আরও অভিযোগ করে যে, জুলাইয়ের অন্যতম সহযোদ্ধা মামুনুর রশীদকে গুম করা হয়েছে। তিন দিনের বেশি সময় ধরে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। যদি তার কোনো ক্ষতি হয়, তবে সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন শুরু করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন ফাহিম ফারুকী।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রবিরোধী, সন্ত্রাসী ও গণবিরোধী সংগঠন। তাদের যেকোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম সংবিধানবিরোধী। সরকার যদি এদের কার্যক্রম বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তবে প্রমাণ হবে তারা জনগণের নিরাপত্তা নয়, বরং জঙ্গিবাদকেই প্রশ্রয় দিচ্ছে। যদি বর্তমান অব্যবস্থা চলতে থাকে, তবে আদালতের সিঁড়ি থেকে রাজপথ পর্যন্ত ন্যায়বিচারের জন্য তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।