নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯ বছরে মাত্র একবার সমাবর্তন

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯ বছরে মাত্র একবার সমাবর্তন

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রায় দুই দশক অতিক্রম করলেও এই দীর্ঘ সময়ে মাত্র একটি সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৭ সালের ১৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত প্রথম সমাবর্তনে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত মোট পাঁচটি ব্যাচ সনদ গ্রহণের সুযোগ পেয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে দ্বিতীয় সমাবর্তনের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হলেও, সে বছরের জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে তা আর বাস্তবায়িত হয়নি।

সমাবর্তন শিক্ষার্থীদের জন্য এক বিশেষ ও গৌরবময় মুহূর্ত, যা তাঁদের একাডেমিক জীবনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি এবং পেশাগত জীবনের সূচনার প্রতীক। প্রতিবছর না হলেও অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েক বছর পরপর নিয়মিতভাবে সমাবর্তন আয়োজন করা হয়। কিন্তু ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ ১৯ বছরে মাত্র একবারই সমাবর্তন আয়োজন করা হয়েছে।

২০১৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রথম সমাবর্তনে প্রায় ১ হাজার ৩৯৯ জন শিক্ষার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ গ্রহণ করেছিলেন। এরপর বিভিন্ন বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশন পর্যন্ত আরও প্রায় ৮টি ব্যাচ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছে। দীর্ঘ এই বিরতিতে সমাবর্তনের অভাবে অনেক শিক্ষার্থী চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই মনে করছেন, ডিগ্রির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না থাকায় কর্মজীবনে এক ধরনের অসম্পূর্ণতা তৈরি হচ্ছে। এছাড়াও, সমাবর্তন না হওয়ায় অ্যালামনাই গঠিত হচ্ছে না, যার ফলে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগের একটি বিরাট শূন্যতা রয়ে যাচ্ছে।

থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী আনিকা তাবাসসুম বলেন, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রায় দুই দশক অতিক্রান্ত হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র একটি সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাতে দ্রুত দ্বিতীয় সমাবর্তন আয়োজন অত্যন্ত জরুরি। আমরা দৃঢ়ভাবে দাবি জানাচ্ছি, শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য সম্মান ও সাফল্যের স্বীকৃতি দিতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।”

ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী মাহাবুবুল আলম মাহিন বলেন, “দুই দশকে একটি মাত্র সমাবর্তন সত্যিই হতাশাজনক। বর্তমানে আমরা ১৯তম ব্যাচ পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছি। শিক্ষার্থীর জীবনের সবচেয়ে গৌরবময় মুহূর্ত হলো সমাবর্তন। আমরা আন্তরিকভাবে আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের এই আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সমাবর্তনের আয়োজন করবে। এতে আমাদের স্বপ্ন পূরণ হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানও বৃদ্ধি পাবে।”

পরবর্তী সমাবর্তন কবে অনুষ্ঠিত হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন আমরা বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করছি। ডিন মহোদয়গণ, ছাত্রপরামর্শকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আলোচনা করে কিভাবে ও কখন পরবর্তী সমাবর্তনের আয়োজন করা যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।