ট্রেনের যাত্রীদের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আহত পাঁচ

ট্রেনের যাত্রীদের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আহত পাঁচ

সংগ্রহীত ছবি

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার শরৎনগর রেল স্টেশনে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রীদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ট্রেনের যাত্রী ও গ্রামবাসীসহ অন্তত পাঁচ জন আহত হয়েছেন।

গতকাল সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

গতকাল সকালে ভাঙ্গুড়া রেল স্টেশনে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় শরৎনগর রেল স্টেশনে একতা এক্সপ্রেস ট্রেনকে তিন ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখায় এই ঘটনা ঘটে।

 

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার ভোরে উপজেলার ভাঙ্গুড়া রেল স্টেশনে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। এতে ছয় ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকার পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ট্রেন চলাচল শুরু করে। এরপর থেকে উদ্ধার অভিধানে নিয়োজিত রিলিফ ট্রেন মধ্যরাত পর্যন্ত রেল লাইনের মেরামত কাজ করে।

এ কারণে ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেস ট্রেন সন্ধ্যা ছয়টার দিকে শরৎনগর রেল স্টেশনে যাত্রা বিরতি দেয়। এর প্রায় তিন ঘণ্টা পার হলে ট্রেনের যাত্রীরা স্টেশন মাস্টারকে ট্রেন ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলে। কিন্তু স্টেশন মাস্টার সিগন্যাল না পাওয়ায় ট্রেন আটকে রাখেন। একপর্যায়ে ট্রেনের যাত্রীরা ক্ষিপ্ত হয়ে স্টেশন মাস্টারকে মারধরের চেষ্টা করেন।

এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা যাত্রীদেরকে ঠেকানোর চেষ্টা করলে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ মারধর করে ট্রেনের যাত্রীরা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা স্টেশন মসজিদের মাইকে গ্রামের লোকজনকে আহ্বান করা হয়। পরে গ্রামের লোকজন জড়ো হয়ে ট্রেনের যাত্রীদের ওপর হামলা করলে উভয়পক্ষের মধ্যে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ট্রেনের জানালার গ্লাস ভাঙচুর করে উত্তেজিত জনতা।

পরে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে ট্রেনকে এক কিলোমিটার সামনে নিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়।

ভাঙ্গুড়া থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শরৎনগর রেল স্টেশনে একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।’