উৎপাদনশীলতার বড় শত্রু অফিসে কাজে ফাঁকি দিয়ে ঘুম পরা!

উৎপাদনশীলতার বড় শত্রু  অফিসে কাজে ফাঁকি দিয়ে ঘুম পরা!

অফিসে কাজে ফাঁকি দিয়ে ঘুম পরা! ছবিঃ সংগৃহিত।

বাংলাদেশের অনেক অফিসে এখন এক অদ্ভুত দৃশ্য সাধারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে—কর্মীরা ডেস্কে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছেন, কেউ কেউ আবার চেয়ার হেলান দিয়ে দিব্যি তন্দ্রায় ডুবে আছেন। আবার কেউ কেউ বিছানা পেতে সটান ঘুমোচ্ছেন, এমনকি নাক ডেকে সময় পার করছেন। সকাল ৯টায় অফিসে আসার নিয়ম থাকলেও কেউ কেউ দুপুর ২টায় এসে হাজির হন। সামান্য কাজ সেরে আবার বিশ্রাম নেন। মনে হয় যেন অফিসের মূল উদ্দেশ্য আর কাজ নয়, বরং বিশ্রাম নেওয়া।

এই প্রবণতা শুধু অফিসে শৃঙ্খলা নষ্ট করছে না, বরং উৎপাদনশীলতার ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। কেন এই প্রবণতা বাড়ছে এবং এর সমাধান কী হতে পারে, তা খুঁজে দেখার সময় এসেছে।

কেন কর্মীরা অফিসে এসে ঘুমাচ্ছেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, দায়িত্ববোধের অভাব। অফিসে উপস্থিত থাকা মানেই কাজ করা নয়—এমন ধারণা অনেকের মধ্যে গড়ে উঠেছে। উপস্থিতি বা কর্মক্ষমতা যাচাইয়ের নিয়ম অনেক প্রতিষ্ঠানে দুর্বল। ‘বেতন নিশ্চিত, কাজ না করলেও ক্ষতি নেই’ এই মানসিকতা অফিসে অলসতার সংস্কৃতি তৈরি করছে।

এক কর্মী জানান, সকাল ৯টায় অফিস শুরু হলেও ১টার আগে অনেক সহকর্মী আসেন না। যারা সময়মতো আসেন, তারা কাজের চাপে ক্লান্ত হয়ে পড়েন, কারণ বাকিদের দায়িত্বও তাদের ঘাড়ে এসে পড়ে।

অন্য একজন বলেন, কিছু কর্মী নিয়মিত ডেস্কে বসে ঘুমান। আমরা যখন তাদের সতর্ক করি, তারা বলেন কাজ শেষ করলেই হলো, বাকি সময় তারা বিশ্রাম নেবেন। এতে টিমওয়ার্ক নষ্ট হয়।

অফিসে ঘুমের এই প্রবণতা শুধু ছোটখাটো সমস্যা নয়—এটি একটি অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ। গবেষণায় দেখা গেছে, অফিসে অলসতা ও কাজ ফাঁকি দেওয়ার কারণে একটি কোম্পানির উৎপাদনশীলতা ৪০-৫০% পর্যন্ত কমে যেতে পারে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে প্রতিষ্ঠান লোকসানে পড়ে, কারণ একই কাজের জন্য বেশি জনবল বা বেশি সময় ব্যয় করতে হয়। শুধু তাই নয়, প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকাও কঠিন হয়ে পড়ে।

নৈতিকতা ও কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতি সংকট
অফিসে ঘুমানো শুধু শৃঙ্খলা ভঙ্গ নয়, এটি নৈতিক সংকটেরও ইঙ্গিত দেয়। যারা নিয়ম মেনে কাজ করেন, তারা হতাশ হন। অফিসের টিমওয়ার্ক নষ্ট হয়। ক্যারিয়ার উন্নতির সুযোগ হাতছাড়া হয়, কারণ কর্মক্ষমতা কমে যায়।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছু কার্যকর সমাধান হতে পারে যেমন, কর্মীদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা। অফিস কেবল বেতন নেওয়ার জায়গা নয়—এটি শেখা, বেড়ে ওঠা ও ক্যারিয়ার গড়ার স্থান।

টাইম ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু: উপস্থিতি ও কাজের অগ্রগতি ডিজিটালি মনিটর করা।

সুষ্ঠু প্রণোদনা: যারা সময়মতো আসেন ও কাজ করেন তাদের পুরস্কৃত করা।

ম্যানেজমেন্টকে শেখাতে হবে কীভাবে টিমকে মোটিভেটেড রাখা যায়।

অফিস শুধু চাকরি করার জায়গা নয়; এটি ব্যক্তিগত উন্নয়নের এক বিশাল ক্ষেত্র। কর্মীরা যদি সময়মতো এসে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেন, তবেই প্রতিষ্ঠান এগিয়ে যেতে পারে। ঘুমিয়ে সময় নষ্ট করলে নিজের ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎও বিপন্ন হয়।

এখনই সময় একটি সুস্থ, কর্মমুখী অফিস সংস্কৃতি গড়ে তোলার—যেখানে দায়িত্ববোধ, সময়ানুবর্তিতা ও পেশাদারিত্ব হবে প্রধান শক্তি।