আহার করানো ও সালাম: ইসলামের সর্বোত্তম ২ আমল

আহার করানো ও সালাম: ইসলামের সর্বোত্তম ২ আমল

ছবি: সংগৃহীত

ইসলাম এমন একটি জীবনব্যবস্থা, যা মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে শক্তিশালী করার জন্য বিভিন্ন উত্তম আচরণকে উৎসাহিত করেছে। এর মধ্যে অন্যতম দুটি হলো- ‘আহার করানো (খাওয়ানো) এবং সালাম দেওয়া। এ দুটি আমলকে কোরআন ও হাদিসে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ বলে বর্ণনা করা হয়েছে।

আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসুল (স.) -কে জিজ্ঞেস করল, ‘ইসলামের কোন কাজ সবচেয়ে উত্তম?’ তিনি বললেন- তুমি লোকদের খাদ্য খাওয়াবে এবং চেনা অচেনা সকলকে সালাম দিবে। (সহিহ বুখারি: ২৮)

আহার করানোর ফজিলত

অন্যকে আহার করানো ইসলামে দান ও মানবসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তারা নিজেদের পছন্দের খাদ্য অভাবগ্রস্ত, এতিম ও বন্দিকে খাওয়ায়। তারা বলে, আমরা তোমাদের খাওয়াচ্ছি কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য; তোমাদের কাছ থেকে আমরা কোনো প্রতিদান বা কৃতজ্ঞতা চাই না।’ (সুরা ইনসান: ৮-৯)

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘মানুষকে আহার করাও, সালাম প্রচার করো, আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করো, আর যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে তখন নামাজ পড়ো। তাহলে তুমি শান্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (ইবনে মাজাহ: ৩২৫১, তিরমিজি: ২৪৮৫)

আরেক হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি রোজাদারকে ইফতার করায়, তার জন্য রোজাদারের সমান সওয়াব রয়েছে, তবে রোজাদারের সওয়াব থেকে কিছু কমবে না।’ (তিরমিজি: ৮০৭)

এই নির্দেশনাগুলো স্পষ্ট করে যে, অন্যকে খাওয়ানো শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়, বরং জান্নাতের পথপ্রদর্শক এক মহান ইবাদত।

সালাম দেওয়ার ফজিলত

সালাম ইসলামি সংস্কৃতির এক অনন্য পরিচায়ক। এটি শুধু শুভেচ্ছা নয়, এটি দোয়া, শান্তি ও ভালোবাসার প্রতীক। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না ঈমান আনবে; আর তোমরা ঈমান আনবে না, যতক্ষণ না একে অপরকে ভালোবাসবে। আমি কি তোমাদের এমন একটি কাজের কথা বলব, যা করলে তোমরা পরস্পর ভালোবাসবে? পরস্পর সালাম প্রচার করো।’ (সহিহ মুসলিম: ৫৪)

আরেক বর্ণনায় এসেছে, ‘ছোটরা বড়দের সালাম দেবে, পথচারী বসা ব্যক্তিকে, আর অল্পসংখ্যক বেশি সংখ্যককে।’ (সহিহ বুখারি: ৬২৩১)

অর্থাৎ সালাম বিনয়, শ্রদ্ধা ও ভাইচারা প্রতিষ্ঠার প্রতীক। এটি সমাজে সৌহার্দ্য ও আস্থার পরিবেশ তৈরি করে।

সামাজিক ও আধ্যাত্মিক প্রভাব

আহার করানো মানুষের হৃদয়ে সহানুভূতি সৃষ্টি করে এবং অভাবগ্রস্তদের কষ্ট লাঘব করে। অন্যদিকে সালাম সমাজে শান্তি ও পারস্পরিক সম্মান জাগিয়ে তোলে। এই দুই আমল একত্রে একটি আদর্শ ইসলামি সমাজ প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি করে, যেখানে ভালোবাসা, দয়া ও ভ্রাতৃত্ব সর্বোচ্চ মর্যাদায় আসীন থাকে।

সারকথা, আহার করানো ও সালাম দেওয়া— এই দুটি সহজ কিন্তু শক্তিশালী আমল ইসলামি সমাজকে ঐক্যবদ্ধ, শান্তিপূর্ণ ও পরস্পর সহানুভূতিশীল করে তোলে। তাই মুসলমানদের উচিত- এই সহজ ও মানবিক কাজগুলোকেও নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করা।