চোখের নিচে কালচে দাগ, ঘুমের অভাব না কি অন্য কারণ?

চোখের নিচে কালচে দাগ, ঘুমের অভাব না কি অন্য কারণ?

ছবি: সংগৃহীত

মুখ যতই সুন্দর হোক, চোখের নিচে জমা কালি যেন সবটাই ম্লান করে দেয়। ঘুমের অভাব, দুশ্চিন্তা এসব কারণেই বেশিরভাগ সময় ডার্ক সার্কেল দেখা দেয়। আলুর রস, শসা ইত্যাদি ঘরোয়া উপাদান মেখে মেলে মুক্তি। কিন্তু চোখের নিচের কালচে ভাব কি শুধুই ঘুমের অভাবে হয়? নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে? 

বংশগত কারণ 

অনেকেরই ঘরোয়া টোটকা ব্যবহার করে, ঘুমিয়েও চোখের নিচের কালি যায় না। এর কারণ হতে পারে বংশগত। অনেকেরই জন্ম থেকে চোখের নীচের চামড়া বেশ পাতলা হয় কিংবা বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হাইপার পিগমেন্টেশনের সমস্যা হয়। ত্বকের বর্ণ যখন গাঢ় হতে শুরু করে, তাকে হাইপার-পিগমেন্টেশন বলে। যার ফলে, ঘুম হোক বা না হোক, ক্লান্তি না থাকলেও, চোখের চারপাশের কালো ছোপ উঠতেই চায় না। 

পানির ঘাটতি 

শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়াকলাপ সঠিকভাবে সম্পাদনের জন্য শরীরে পানির প্রয়োজন। কেবল পানি নয়, ফলের রস, খাবার থেকেও সেই ঘাটতি পূরণ হয়। কোনও কারণে যদি শরীরে পানির ঘাটতি হয় তাহলে ত্বকের ঔজ্জ্বল্য কমে যায়। পাশাপাশি চোখের ওপর-নীচেও কালি পড়তে পারে।

ঘুমের অভাব, দুশ্চিন্তা 

ঠিকমতো ঘুম না হওয়া, দুশ্চিন্তা, ক্লান্তি, উদ্বেগ— এসব কারণেও চোখের নিচে কালি জমতে পারে। 

অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম 

কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ফোনের দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে কাজ করতে হয়? দীর্ঘ দিন ধরে এমনটা চলতে থাকলে চোখের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। এতে চোখের চারপাশের রক্তবাহগুলোর পরিধি বাড়তে থাকে। যার প্রভাবে চোখের নিচে কালচে ছোপ পড়ে। 

সূর্যরশ্নি 

অনেকসময় সূর্যরশ্মির প্রভাবেও চোখের নিচে কালচে ছোপ পড়তে পারে। তাই রোদে বের হলে চোখকেও যত্নে রাখতে হবে।

সমস্যা থেকে মুক্তির উপায় 

পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহণ 

চিকিৎসকরা বলছেন, সুস্থ থাকা, উজ্জ্বল ত্বক পাওয়ার অন্যতম চাবিকাঠি হলো পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহণ। ভিটামিন সি ত্বকের জেল্লা ধরে রাখতে বিশেষভাবে সাহায্য করে। অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ খাবার যেমন লেবু, আপেল, পালং শাক-সহ বিভিন্ন সবুজ শাকসবজি ত্বক ভালো রাখে। খাদ্যতালিকায় রাখুন থোর, মোচা, বাদামের মতো আয়রন সমৃদ্ধ খাবার। 

পর্যাপ্ত ঘুম ও শরীরচর্চা

পর্যাপ্ত ঘুম ও শরীরচর্চা এই সমস্যার সমাধান করতে পারে। ব্যায়াম করলে সমগ্র দেহে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়। অক্সিজেন সরবরাহ হয় ঠিকভাবে। 

সানস্ক্রিন ও সানগ্লাস 

সানস্ক্রিন মাখা এবং সানগ্লাস ব্যবহার করাও জরুরি। সূর্যের অতি ক্ষতিকর বেগনি রশ্মি ত্বককে পুড়িয়ে দেয়। চোখের চারপাশে চামড়া বেশি পাতলা হলে, ক্ষতির আশঙ্কা থাকে বেশি। তাই সানস্ক্রিনের পাশাপাশি সানগ্লাসও ব্যবহার করা দরকার।