চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে ২ গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ২ ভাইয়ের মৃত্যু

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে ২ গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ২ ভাইয়ের মৃত্যু

ছবি নাচোল থানা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় পূর্বশত্রুতার জের ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত মিলন আলী (৬৫) ও আলম আলী (৫৭) নামের দুই সহোদর মারা গেছেন। বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাত পৌনে ৮টার দিকে প্রথমে মিলন ও রাত ৯টার দিকে তার ছোটভাই আলম রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

তারা কসবা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ফুলবাড়ি সোনকায় গ্রামের মৃত নওশাদ আলীর ছেলে। 

নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম দুই ভাইয়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর পর্যন্ত সংঘর্ষে মানিরুল ইসলাম মানি নামে সাবেক এক ইউপি সদস্য এবং এক নারীসহ অন্তত ১৪ জন আহত হন। প্রথমে তাদের জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে, পরে সকলকেই রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুধবার রাতে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই ভাই মিলন ও আলমের মৃত্যু হয়।

সূত্রগুলো আরো জানায়, হতাহতরা সকলেই জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম তুহিন ও নাচোল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের খোকনের অনুসারী।

অপরদিকে গত মঙ্গলবার হামলা শুরুর অভিযোগ পাওয়া গেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত) আসনের সাবেক এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সহ-সম্পাদক আমিনুল ইসলামের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। তুহিন ও আমিনুল উভয়েই আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ওই আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী। 

মঙ্গলবার দুই নেতা সংঘর্ষে তাদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন। উভয়েই দাবি করেন, বিষয়টি রাজনৈতিক নয়।

সমস্যা স্থানীয় গ্রাম্য দলাদলি। স্থানীয় নেতারা বিষয়টি ভালো জানেন। 

আমিনুল ইসলাম বলেন, কয়েক দফা গন্ডগোল হয়েছে। পুলিশকে বারবার পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

বুধবার রাত সোয়া ১১টায় সাবেক এমপি আমিনুল ইসলাম বলেন, ব্যস্ত রয়েছি।

এ ব্যাপারে পরে কথা বলব। 

আব্দুস সালাম তুহিনকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে আবু তাহের খোকন ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি করেন।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, মঙ্গলবার ঘটনার সময় অন্তত ১০/১২টি বাড়িঘরে হামলা করা হয়। 

সূত্রগুলো জানায়, মঙ্গলবার ফুলবাড়ি গ্রামে হামলা ও মারধর শুরু হয়। পরে তা পাশের একই ওয়ার্ডের মারকইল এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পাহাড়পুর গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে নাচোল থানার বিপুলসংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়।

জানা গেছে, এর আগে গত রবিবার (১২ অক্টোবর) চলমান দ্বন্দ্বে সাবেক এমপি আমিনুল পক্ষের ফুলবাড়ি গ্রামের তরিকুল (৫০) নামের একজন গুরুতর আহত হলে মামলা হয়। ওই মামলায় কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। তরিকুলকে মারধরের জেরেই মঙ্গলবারের ঘটনা শুরু হয়।

বুধবার রাত সাড়ে ১১টায় ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, বুধবার রাতে ২ জনের মৃত্যু ও বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় থানায় একাধিক মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। তবে এসব ঘটনায় এখনও কেউ আটক হয়নি। এলাকায় গত মঙ্গলবার দিনব্যাপী পুলিশ মোতায়েন থাকার পর মৃত্যুর খবর পেয়ে আবার পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

এদিকে একাধিক সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের অপর এক ভাই আমিরুলসহ আরো কয়েকজনের অবস্থা সংকটাপন্ন।