সাবেক সংসদ সদস্য এ কে আজাদকে গ্রেপ্তারের দাবিতে ফরিদপুরে ঝাড়ু মিছিল

সাবেক সংসদ সদস্য এ কে আজাদকে গ্রেপ্তারের দাবিতে ফরিদপুরে ঝাড়ু মিছিল

সংগ্রহীত ছবি

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ফরিদপুর জেলা কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর বহিষ্কৃত সদস্য, সাবেক সংসদ সদস্য ও শিল্পপতি এ কে আজাদকে গ্রেপ্তারের দাবিতে ঝাড়ু মিছিল করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ফরিদপুর প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন শেষে বিএনপির দুই সহস্রাধিক নেতাকর্মী শহরের মুজিব সড়কে এই ঝাড়ু মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে ঘণ্টাব্যাপী সেখানে অবস্থান নিয়ে এ কে আজাদের গ্রেপ্তার দাবি ও ঝাড়ু মিছিল করে।

তার আগে ফরিদপুরের পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন ফ্যাসিবাদের দোসরদের সহযোগিতা করছে অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলন করেন কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।

এ সময় সাবেক সংসদ সদস্য এ কে আজাদ এবং আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও পুলিশের আইজির প্রতি আহবান জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে চৌধুরী নায়াব ইউসুফ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের নিয়ে গণসংযোগকালে বিএনপিকে উদ্দেশ করে উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়ায় সদর উপজেলার পরমানন্দপুর বাজারে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।  এ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে হামলার মনগড়া তথ্য বানিয়ে মিডিয়াকে ব্যবহার করে এ কে আজাদ বিএনপি ও আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।’

ফরিদপুরে আবারও আওয়ামী দুঃশাসন শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার পর থেকে পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করতে বাড়িতে বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছে।

অনেকেই বাড়িছাড়া।’

সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের আইজি এবং ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজির দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘অতি  দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ ফরিদপুর জেলা শাখার উপদেষ্টামণ্ডলীর বহিষ্কৃত সদস্য এ কে আজাদসহ ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসনকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করছি।’

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত  ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ কে কিবরিয়া স্বপন, যুগ্ম আহ্বায়ক আফজাল হোসেন খান পলাশ, সৈয়দ জুলফিকার হোসেন, মো. আজম খান, রাশেদুল ইসলাম লিটন, এ বি সিদ্দিকী মিতুল, মহানগর বিএনপির এ এফ এম কাইয়ুম জঙ্গী, গোলাম মোস্তফা মিরাজ, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বেনজির আহমেদ তাবরিজ প্রমুখ ।

প্রসঙ্গত, গত রবিবার বিকেলে ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের পরমানন্দপুর বাজারে গণসংযোগ করেন ফরিদপুর সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ কে আজাদ।

একই সময়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফার প্রচারে মিছিল নিয়ে উপস্থিত হন কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী চৌধুরী নায়াব ইউসুফের সমর্থকরা। এ সময় কোতোয়ালি যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. নান্নু মোল্লার নেতৃত্বে একটি মিছিল শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এরপর দলের ৩১ দফা প্রচারণায় যুবদলের কয়েক শ নেতাকর্মী অংশ নেন।

ওই সময় এ কে আজাদকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ বলে বিএনপির নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতে থাকেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এ সময় ডিবি পুলিশের একটি গাড়ি এবং এ কে আজাদের বহরের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনার পর এ কে আজাদ গণমাধ্যমকে বলেন, চাঁদাবাজি ও পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু কাটার বিরোধিতা করার কারণেই পরমানন্দপুরে হামলার ঘটনা ঘটেছে।