অনলাইন প্রতারকদের জন্য বেত্রাঘাতের শাস্তি চালু হচ্ছে সিঙ্গাপুরে

অনলাইন প্রতারকদের জন্য বেত্রাঘাতের শাস্তি চালু হচ্ছে সিঙ্গাপুরে

প্রতিকী ছবি

অনলাইন প্রতারকদের জন্য বেত্রাঘাতের শাস্তি চালু হচ্ছে সিঙ্গাপুরে।মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) পার্লামেন্টে এ বিষয়ে নতুন আইনি সংশোধনী উপস্থাপন করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ রাষ্ট্রমন্ত্রী সিম অ্যান।

তিনি জানান, প্রতারকদের জন্য ন্যূনতম ছয় দফা বেত্রাঘাত (ক্যানিং) বাধ্যতামূলক করা হবে। প্রতারণার ধরন হিসেবে ‘দূরবর্তী যোগাযোগের মাধ্যমে প্রতারণা’কে (স্ক্যাম) সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

২০২০ সাল থেকে ২০২৫ সালের প্রথমার্ধ পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে অনলাইন প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষতির পরিমাণ ২৮০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। এই সময়ে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার প্রতারণার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানান সিম অ্যান।

তিনি বলেন, আমরা প্রতারকদের জন্য বাধ্যতামূলক বেত্রাঘাত চালু করবো। এসব অপরাধে যারা জড়িত, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

এছাড়া প্রতারণা সিন্ডিকেটে জড়িত ব্যক্তিদেরও একই ধরনের শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।তার ভাষায়, এই সিন্ডিকেটগুলো বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরি করে প্রতারণা চালায়। তাই তাদের দায় সবচেয়ে বেশি। সিন্ডিকেট সদস্য ও নিয়োগকারীরা ন্যূনতম ছয় দফা বেত্রাঘাতের শাস্তির মুখোমুখি হবেন।

বিল অনুযায়ী, যারা প্রতারকদের সহযোগিতা করে—যেমন ‘মানি মিউল’ হিসেবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা সিম কার্ড সরবরাহ করে—তাদের সর্বোচ্চ ১২ দফা বেত্রাঘাতের শাস্তি হতে পারে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিঙ্গাপুর সরকার অনলাইন প্রতারণা রোধে জনসচেতনতা কর্মসূচি জোরদার করেছে। ২০২০ সালে চালু করা ‘স্ক্যামশিল্ড’ অ্যাপ ব্যবহারকারীদের সন্দেহজনক কল, ওয়েবসাইট ও মেসেজ যাচাইয়ে সহায়তা করে।

গত বছর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুংও স্বীকার করেছিলেন, তিনি নিজেও এক অনলাইন প্রতারণার শিকার হয়েছিলেন। অনলাইনে অর্ডার করা একটি পণ্য তার কাছে পৌঁছায়নি।