বিএমইউর ব্যবস্থাপত্রে অনিবন্ধিত ওষুধ লিখলে শাস্তির বিধান রাখার সুপারিশ
সংগৃহীত
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) চিকিৎসকরা ব্যবস্থাপত্রে (প্রেসক্রিপশন) বাংলাদেশ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (ডিজিডিএ) কর্তৃক অনুমোদিত নয় এমন ওষুধ লিখতে পারবেন না বলে নীতিমালা থাকলেও, লিখলে কী ধরনের শাস্তি হবে—এই সংক্রান্ত কোনো বিধান বা নীতিমালা নেই। তাই অনিবন্ধিত ওষুধ লিখলে শাস্তির বিধান রেখে নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশ করেছে বিএমইউর অনিবন্ধিত ওষুধ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন কমিটি।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বিএমইউর ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলমের কাছে সংশ্লিষ্ট কমিটির হস্তান্তরকৃত লিখিত সুপারিশমালা থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
কমিটির সুপারিশে বলা হয়ে, বিএমইউর চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্রে অনিবন্ধিত ঔষধের অস্তিত্ব বিদ্যমান রয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে শাস্তির বিধানসমূহ দেশের প্রচলিত বিভিন্ন আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে—যেমন ‘ঔষধ ও প্রসাধনী আইন, ২০২৩’ এবং ‘বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০’-এর বিধান অনুসারে শাস্তির ধারা সমন্বয় করে নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
যে সকল ভিটামিন, মিনারেল সাপ্লিমেন্ট ও হেলথ কেয়ার প্রোডাক্ট বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যমে বিদেশ থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয়, সেই সকল পণ্য ডিজিডিএ ও বাংলাদেশ মান নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠান (বিএসটিআই) কোন প্রক্রিয়ায় যাচাই–বাছাই করে ব্যবহারের বা বিক্রির অনুমোদন দেয়, কিংবা আদৌ এ ধরনের অনুমতি প্রদান করে কি না—তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
এছাড়া, চিকিৎসকরা যেন সহজেই নিবন্ধিত ওষুধের তালিকা দেখতে পারেন, সে জন্য https://dgda.portal.gov.bd অথবা https://www.dgdagovt.info ওয়েবসাইটে প্রবেশের সুবিধা নিশ্চিত করতে এবং তথ্যপ্রাপ্তি প্রক্রিয়া সহজীকরণে আইটি সেকশনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, বিএমইউর চিকিৎসকরা অনিবন্ধিত ঔষধ রোগীদের ব্যবস্থাপত্রে যেন পরামর্শ না দেন সেই বিষয়ে সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে লিফলেট ছাপিয়ে সকলের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া। এ ছাড়া সেমিনার, সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে সচেতনতা তৈরি করা এবং অনিবন্ধিত ঔষধ ব্যবস্থাপত্রে লিখলে শাস্তিসমূহ কি হতে পারে এই বিষয়ে প্রত্যেক চিকিৎসকগণকে সজাগ ও সচেতন করা উদ্যোগ নেয়া হয়।
এতে আরও বলা হয়, হাসপাতালের ইনডোর আউটডোর, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রবেশদ্বারে বড় করে সাইনবোর্ড লাগানো, প্রত্যেক বিভাগে চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি প্রেরণ করা এবং ঔষধ প্রশাসন ও বিএসটিআই কর্তৃক নিবন্ধিত ঔষধের তালিকা প্রত্যেক বিভাগে ও আউটডোরে সরবরাহের বাবস্থা করা ইত্যাদি।
এর আগে বিএমইউতে অনিবন্ধিত ওষুধ ব্যবস্থাপত্রে লিখলে শাস্তির বিধান রেখে নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশ করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়।
এই কমিটির সভাপতি করা হয় বিএমইউ-এর মেডিকেল টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবু হেনা চৌধুরীকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. ইলোরা শারমিন ও উপ-রেজিস্ট্রার (আইন) ডা. আবু হেনা হেলাল উদ্দিন আহমেদ। কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী পরিচালক (আইন) অ্যাডভোকেট তানিয়া আক্তার।
দেশের বিদ্যমান আইনে অনিবন্ধিত ওষুধ, ভিটামিন এবং মিনারেল সাপ্লিমেন্ট ব্যবস্থাপত্রে প্রদান করা হলে তা আইনগতভাবে অপরাধ বা ব্যত্যয় হিসেবে গণ্য হয় কি না—তা নির্ধারণ এবং হলে আইনি প্রতিকার ও শাস্তির বিধান নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় সুপারিশমালা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কমিটিকে।