ঈমানের মজা ভালোবাসায়

ঈমানের মজা ভালোবাসায়

ছবি: সংগৃহীত

ঈমান মুখের দাবি নয়; এটি হৃদয়ের গভীরে লালিত এক পরম ভালোবাসার নাম। এই ভালোবাসা যখন আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের (স.) প্রতি নিবেদিত হয়, তখনই ঈমান পায় তার স্বাদ, তার সৌরভ। হৃদয়ের সমস্ত ভালোবাসাকে যখন আমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের জন্য উৎসর্গ করি, তখনই আমাদের ঈমান পরিপূর্ণতা পায়, আত্মা পায় অনাবিল শান্তি। আসুন, ডুব দেই ঈমানের সেই নির্মল স্বাদের জগতে, যেখানে ভালোবাসাই হয়ে ওঠে ইবাদতের সবচেয়ে সুন্দর রূপ।

ঈমানের স্বাদ ভালোবাসায়

ঈমানের প্রকৃত স্বাদ তখনই অনুভূত হয়, যখন সমস্ত ভালোবাসা হয়ে ওঠে একমাত্র আল্লাহর জন্য; আল্লাহর রাসুলের জন্য এবং সকল মুমিনের জন্য। হাদিসে এসেছে, রাসুল (স.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য কাউকে ভালোবাসে, আর আল্লাহর জন্য কারো সঙ্গে বিদ্বেষ পোষণ করে এবং আল্লাহর জন্যই দান-খয়রাত করে আবার আল্লাহর জন্যই দান-খয়রাত থেকে বিরত থাকে, সে ঈমান পূর্ণ করল। (আবু দাউদ, মেশকাত: ৩০)

এই ভালোবাসা কোনো গোষ্ঠী বা দলের সীমানায় আবদ্ধ নয়। কোনো মুমিন ভাইকে তার পরিচয় বা মতাদর্শের কারণে অবজ্ঞা করলে ঈমানের দাবি ম্লান হয়ে যায়। রাসুল (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের মতো সালাত আদায় করে, আমাদের কেবলামুখী হয় আর আমাদের জবাই করা প্রাণী খায়, সে-ই মুসলিম, যার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসুল জিম্মাদার। সুতরাং তোমরা আল্লাহর জিম্মাদারিতে বিশ্বাসঘাতকতা করো না।’ (সহিহ বুখারি: ৩৯১)

মুমিনরা এক দেহের মতো

মুমিনদের মধ্যে বিভেদের কোনো স্থান নেই। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ (রহ.) বলেছেন, বংশ, অঞ্চল বা মাজহাবের ভিত্তিতে মুমিনদের মধ্যে কোনো পার্থক্য সৃষ্টি করা যায় না। রাসুল (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘পারস্পরিক দয়া, ভালোবাসা ও সহানুভূতিতে তুমি মুমিনদের একটি দেহের মতো দেখবে। যখন শরীরের একটি অঙ্গ রোগে আক্রান্ত হয়, তখন শরীরের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ রাত জাগে এবং জ্বরে অংশ নেয়।’ (সহিহ বুখারি: ৬০১১)

এই ভালোবাসা অবশ্যই আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সন্তুষ্টির জন্য হতে হবে। আল্লাহ তাআলা কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী এমন কোনো সম্প্রদায় তুমি পাবে না যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরোধিতাকারীদেরকে ভালবাসে- হোক না এই বিরোধীরা তাদের পিতা অথবা পুত্র অথবা তাদের ভাই অথবা তাদের জ্ঞাতি গোষ্ঠী।’ (সুরা মুজাদালা: ২২)

নবীজির প্রতি ভালোবাসাই ঈমানের প্রাণ

আমরা ছিলাম পথভ্রষ্ট, অন্ধকারে নিমজ্জিত। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমাদের মধ্যে প্রেরিত হয়েছেন রহমাতুল্লিল আলামিন (স.)। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ মুমিনদের প্রতি অবশ্যই অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের মধ্য থেকে রাসুল পাঠিয়েছেন, যিনি তাঁর আয়াতসমূহ তাদের কাছে তেলাওয়াত করেন, তাদেরকে পরিশোধন করেন এবং কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দেন, যদিও তারা আগে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতেই ছিল।’ (সুরা আলে-ইমরান: ১৬৪)

নবীজি (স.) সমগ্র সৃষ্টিজগতের জন্য রহমত। পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করা হয়েছে, ‘আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।’ (সুরা আম্বিয়া: ১০৭)

নবীজির (স.) প্রতি ভালোবাসা ঈমানের অপরিহার্য অঙ্গ। হাদিসে এসেছে, ‘তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পিতা, তার সন্তান ও সব মানুষ অপেক্ষা অধিক প্রিয়পাত্র হই।’ (সহিহ বুখারি: ১৫)

একবার হজরত ওমর (রা.) নবীজির সামনে তার অন্তরের অনুভূতি প্রকাশ করে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমার জান ছাড়া আপনি আমার কাছে সবকিছুর চেয়ে অধিক প্রিয়। তখন নবী (স.) বললেন, না, যাঁর হাতে আমার প্রাণ ওেই সত্তার কসম! তোমার কাছে আমি যেন তোমার প্রাণের চেয়েও প্রিয় হই। তখন ওমর (রাঃ) তাঁকে বললেন, আল্লাহর কসম! এখন আপনি আমার কাছে আমার প্রাণের চেয়েও বেশি প্রিয়। নবী (স.) বললেন, হে ওমর! এখন (তুমি সত্যিকার ঈমানদার হলে)।’ (সহিহ বুখারি: ৬৬৩২)

হে আল্লাহর প্রিয় বান্দাগণ! আসুন, আমরা আমাদের হৃদয়কে সকল ভেদাভেদ ও সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত করি; পরস্পরকে ভালোবাসি। আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের (স.) জন্য হোক আমাদের সকল ভালোবাসা, সকল সম্পর্কের বন্ধন। নবীজির (স.) প্রতি অগাধ ভালোবাসাই আমাদের ঈমানকে করবে প্রাণবন্ত, আমাদের জীবনকে করবে আলোকিত। এই ভালোবাসাই আমাদের দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতার চাবিকাঠি। আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর ও তাঁর রাসুলের (স.) জন্য খাঁটি ভালোবাসার তাওফিক দান করুন। আমিন।