ঢাবিতে শুরু ২ দিনব্যাপী ‘আর্ট ফর ইক্যুয়ালিট’ শিল্প কর্মশালা
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদের শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের তত্ত্বাবধানে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘আর্ট ফর ইক্যুয়ালিট’ শিরোনামের শিল্প কর্মশালা। শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) ৯টি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিল্পীদের অংশগ্রহণে চারুকলা প্রাঙ্গনে এই কর্মশালা শুরু হয়েছে।
নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের অর্থায়নে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের যৌথ বাস্তবায়নে চার বছর মেয়াদী ‘সমতায় তারুণ্য-ইয়ুথ ফর ইক্যুয়ালিটি’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত কর্মশালাটি শেষ হবে শনিবার (১৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায়।
প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মশালার উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়েমা হক বিদিশা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৃৎশিল্প বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও জগন্নাথ হলের প্রোভোস্ট দেবাশীষ পাল, ওরিয়েন্টাল আর্ট বিভাগের অনারারি অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সাত্তার, চারুকলা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন ও ভাষ্কর্য বিভাগের অধ্যাপক এ এ এম কাওসার হাসান এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ইনফ্লুন্সিং, ক্যাম্পেইন ও কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর নিশাত সুলতানা।
কর্মশালা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান ও কর্মশালার কিউরেটর ড. শেখ মনির উদ্দিন। অনুষ্ঠানের শুরুতে কর্মশালার উদ্দেশ্য, কার্যক্রম উপস্থাপন করেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও কর্মশালার কো-কিউরেটর সঞ্জয় কুমার দে।
প্রধান অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়েমা হক বিদিশা বলেন, গত বছরের হিসাব অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী নারী। এখানে নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হলেও, সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষায় এখনো নারীরা পিছিয়ে।’
কর্মাশালায় আগত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তিনি বলেন, ‘এখানে সবার চিন্তার মিথস্ক্রিয়া হবে। আপনারাই একটি ন্যায্যতাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা বিনির্মাণে ভূমিকা রাখতে পারেন।’
চারুকলা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক এ এ এম কাওসার হাসান বলেন, ‘শিল্পীরা কোনো দলের নয়, সকলের। তারা বৈষম্যহীনতার অগ্রসৈনিক। তাদের শিল্পকর্ম সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার।’
অনুষ্ঠানের সভাপতি ড. শেখ মনির উদ্দিন বলেন, কর্মশালায় ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সংযুক্ত। এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। সকলের ভিন্ন ভিন্ন কনসেপ্ট থেকে সৃষ্ট শিল্পকর্ম পৃথিবীর মানুষের কাছে পৌঁছাবে।
প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের পরিচালক-ইনফ্লুয়েন্সিং, ক্যাম্পেইন ও কমিউনিকেশনস, নিশাত সুলতানা বলেন, ছবি এমন একটি মাধ্যম, যেটি মৌখিক বা লিখিত ভাষারও উপরে। ভাষা যেটি পারে না, ছবি সেটি পারে।
তিনি অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের রংতুলি হয়ে উঠুক জীবন বোধের গান।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, ঢাকা আর্ট কলেজ, নারায়ণগঞ্জ ফাইন আর্ট ইনস্টিটিউট ও যশোর এস এম সুলতান আর্ট কলেজকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
চারুকলায় জয়নুল গ্যালারিতে নভেম্বরের ২৫-২৬ তারিখে এই কর্মশালার চিত্রকর্মগুলোর একটি প্রদর্শনী উদ্বোধন করা হবে এবং চিত্রগুলোর বিষয় ও শিল্পীদের বিবরণীসহ একটি ডিজিটাল ক্যাটালগ প্রকাশনা অনুষ্ঠান হবে।
প্রদর্শনীর শুরুতে সেরা ১০ জন শিল্পীকে সম্মানিত করা হবে এবং অংশগ্রহণকারীদের সনদ দেওয়া হবে। তাছাড়া ২৬ নভেম্বর বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী বিষয়ভিত্তিক তিনটি আলাদা সেমিনার আয়োজন করা হবে।